রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বিএনপি, তবুও শিল্পাঞ্চল ভালুকায় জনপ্রিয় আওয়ামী লীগের হাজ্বী রফিকুল ইসলাম
রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের পরও ভালুকার মানুষদের মনে জায়গা ধরে রেখেছেন হাজ্বী রফিকুল ইসলাম। বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকলেও শিল্পাঞ্চল এই সাবেক চেয়ারম্যানের কর্মকাণ্ডের কারণে তাকে এখনও গ্রহণযোগ্য মনে করছে। স্থানীয়রা মনে করেন, তার দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক দায়বদ্ধতা, শিক্ষা ও যুবসমাজের উন্নয়নে অবদান এবং শিল্পাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা তাকে জনমনে জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন তাকে প্রভাবশালী স্থান থেকে সরাতে পারেনি।
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বিএনপি, তবুও শিল্পাঞ্চল ভালুকায় জনপ্রিয় আওয়ামী লীগের হাজ্বী রফিকুল ইসলাম
দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তন এসেছে, বর্তমানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে এই পরিবর্তনের পরও ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজ্বী রফিকুল ইসলাম রফিক।
স্থানীয়দের মতে, দলীয় অবস্থান পরিবর্তিত হলেও হাজ্বী রফিকুল ইসলামের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং জনসম্পৃক্ততা এখনো অটুট রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তার একটি আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।
চেয়ারম্যান হওয়ার আগ থেকেই তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। বিশেষ করে শিক্ষা খাতে তার ভূমিকা স্থানীয়দের কাছে প্রশংসিত। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের সহায়তা প্রদান এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে তার অবদান উল্লেখযোগ্য বলে জানান এলাকাবাসী।
ভালুকা একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হওয়ায় কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে কেন্দ্র করে তার পরিকল্পনাগুলো ছিল বাস্তবমুখী। স্থানীয় শিল্প-কারখানার সঙ্গে জনশক্তির সংযোগ বৃদ্ধি, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বেকারত্ব কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন তিনি। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হতো বলে মনে করেন অনেকেই।
সামাজিক ক্ষেত্রেও তার সক্রিয়তা ছিল লক্ষ্যণীয়। মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি, যুবসমাজকে খেলাধুলার মাধ্যমে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে তিনি সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করেন। এ কারণে তরুণদের মধ্যেও তার একটি শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সৃষ্ট বিভিন্ন মামলা, হামলা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে হাজ্বী রফিকুল ইসলাম বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তবে দূরে থেকেও তিনি নিয়মিতভাবে তার অনুসারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং অসচ্ছল ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান করছেন বলে জানা গেছে।
যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি দ্রুত দেশে ফেরার প্রত্যাশা করছেন। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করেন, তিনি পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলে ভালুকা উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হতো।
এলাকাবাসীর মতে, রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার কারণেই হাজ্বী রফিকুল ইসলাম এখনও ভালুকার মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। ভবিষ্যতে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে তিনি এলাকায় ফিরে এসে উন্নয়নের ধারাকে আরও এগিয়ে নেবেন—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।