এলপিজি গ্যাসের দাম বড় ব্যবধানে বৃদ্ধি, চাপে সাধারণ ভোক্তা
দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এর দাম সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত সর্বশেষ দামে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছরের শুরু থেকে কয়েক দফায় মূল্য সমন্বয়ের ফলে বাজারে গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে
এলপিজি গ্যাসের দাম বড় ব্যবধানে বৃদ্ধি, চাপে সাধারণ ভোক্তা
দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এর দাম সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত সর্বশেষ দামে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছরের শুরু থেকে কয়েক দফায় মূল্য সমন্বয়ের ফলে বাজারে গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১,৩০৬ টাকা, যা ফেব্রুয়ারিতে বেড়ে দাঁড়ায় ১,৩৫৬ টাকায়—অর্থাৎ এক মাসেই ৫০ টাকা বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে মার্চ মাসে দাম কিছুটা সমন্বয় করে ১,৩৪১ টাকা নির্ধারণ করা হলেও প্রতি কেজি গ্যাসের মূল্য ১১১ থেকে ১১৩ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির মূল্যের ওপর নির্ভর করে দেশে প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করা হয়। সৌদি আরামকোর কনট্রাক্ট প্রাইস (Saudi CP) বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ঘাটতিও দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।
এদিকে বাস্তব বাজার পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। বিভিন্ন এলাকায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১২ কেজির সিলিন্ডার ১,৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে, যা নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক বেশি।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাজার তদারকি জোরদার না হলে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ভবিষ্যতে এলপিজির দাম আরও বাড়তে পারে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাবে।
সব মিলিয়ে, এলপিজি গ্যাসের এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের জ্বালানি খাতে অস্থিরতা তৈরি করেছে এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা।