ইউনুস সরকারের সময়ে রপ্তানিতে ধাক্কা, মার্চে আয় কমেছে ১৮%

দেশের চলমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় রপ্তানি খাতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন ইউনুস সরকারের সময়কালে বিশেষ করে চলতি বছরের মার্চ মাসে রপ্তানি আয় প্রায় ১৮ শতাংশ কমে যাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে বিভিন্ন বাণিজ্য বিশ্লেষণে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক মন্দা, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং তৈরি পোশাক খাতে অর্ডার কমে যাওয়াই এর প্রধান কারণ।

PostImage

ইউনুস সরকারের সময়ে রপ্তানিতে ধাক্কা, মার্চে আয় কমেছে ১৮%


দেশের চলমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় রপ্তানি খাতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন ইউনুস সরকারের সময়কালে বিশেষ করে চলতি বছরের মার্চ মাসে রপ্তানি আয় প্রায় ১৮ শতাংশ কমে যাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে বিভিন্ন বাণিজ্য বিশ্লেষণে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক মন্দা, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং তৈরি পোশাক খাতে অর্ডার কমে যাওয়াই এর প্রধান কারণ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (EPB) সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে দেশের মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১.৯১ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কম। 

এছাড়া ২০২৫ সালের শেষ দিকে টানা কয়েক মাস রপ্তানি আয় কমার প্রবণতাও লক্ষ্য করা গেছে। নভেম্বর মাসে রপ্তানি আয় ৫ শতাংশের বেশি কমেছে, যা ধারাবাহিক পতনের ইঙ্গিত দেয়। 

গত এক দশকের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের রপ্তানি খাত মূলত ঊর্ধ্বমুখী ছিল। ২০১৫ সালে যেখানে প্রধান বাজারগুলোতে পোশাক রপ্তানি ছিল প্রধান চালিকাশক্তি, সেখানে ২০২১-২২ সালে মোট রপ্তানি আয় বেড়ে প্রায় ৫৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। 

তবে ২০২০ সালে করোনা মহামারির কারণে রপ্তানিতে প্রায় ১৫ শতাংশ পতন হয়েছিল। 

পরবর্তীতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আবারও কিছুটা ধীরগতি দেখা যায় এবং আয় কমে প্রায় ৪৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের মোট রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে, ফলে এই খাতে সামান্য ধাক্কাও পুরো অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলে। 

বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন বাজার খোঁজা, পণ্য বহুমুখীকরণ এবং উৎপাদন ব্যয় কমানোর ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।

সার্বিকভাবে, গত দশকে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির পর এবার রপ্তানি খাতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা অর্থনীতির জন্য সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর