সংসদীয় কমিটির সুপারিশে বাতিল হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের ২০ অধ্যাদেশ
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে অন্তত ২০টি বাতিলের সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। যাচাই-বাছাই শেষে কমিটি জানিয়েছে, এসব অধ্যাদেশে ঐকমত্য না হওয়ায় এগুলো বাতিলের পথে যাচ্ছে।
সংসদীয় কমিটির সুপারিশে বাতিল হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের ২০ অধ্যাদেশ
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে অন্তত ২০টি বাতিলের সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। যাচাই-বাছাই শেষে কমিটি জানিয়েছে, এসব অধ্যাদেশে ঐকমত্য না হওয়ায় এগুলো বাতিলের পথে যাচ্ছে।
বাতিলের তালিকায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে—গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ-২০২৫, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত অধ্যাদেশ, রাজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনা সংশোধন অধ্যাদেশ, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক সংশোধন অধ্যাদেশ, অর্থ অধ্যাদেশ-২০২৫, এক্সাইজ অ্যান্ড সল্ট সংশোধন অধ্যাদেশ, তথ্য অধিকার সংশোধন অধ্যাদেশ-২০২৬, বেসামরিক বিমান চলাচল সংশোধন অধ্যাদেশ-২০২৬, ট্রাভেল এজেন্সি নিয়ন্ত্রণ সংশোধন অধ্যাদেশসহ অন্যান্য আর্থিক ও প্রশাসনিক সংশোধনী অধ্যাদেশ।
সংসদীয় কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, এসব অধ্যাদেশ পর্যালোচনায় সাংবিধানিকতা ও “জুলাই জাতীয় সনদ”-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ২০টি অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে মতৈক্য না হওয়ায় এগুলো বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তড়িঘড়ি করে অনেক অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, যার মধ্যে আইনি ত্রুটি, সাংবিধানিক অসঙ্গতি ও প্রশাসনিক ঝুঁকি রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, গণভোট অধ্যাদেশের কার্যকারিতা ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে এবং এর বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এছাড়া বিচার বিভাগ ও প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কিত কিছু অধ্যাদেশে ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ এবং স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। মানবাধিকার কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো নিয়েও মতবিরোধ রয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের প্রথম অধিবেশনে অনুমোদন না পেলে অধ্যাদেশগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাস না হওয়ায় এসব অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।
তবে সরকার জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় মনে হলে ভবিষ্যতে সংশোধন করে নতুন করে বিল আকারে এসব বিষয় সংসদে উপস্থাপন করা হতে পারে।