হাম রোগের পুনরুত্থান—শিশুদের জন্য বড় হুমকি, টিকা নেওয়ার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

দেশে আবারও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হাম সংক্রমণ। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অত্যন্ত সংক্রামক এই ভাইরাসজনিত রোগটি অবহেলা করলে মারাত্মক জটিলতা এমনকি মৃত্যুও ঘটাতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে।

PostImage

হাম রোগের পুনরুত্থান—শিশুদের জন্য বড় হুমকি, টিকা নেওয়ার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের


দেশে আবারও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হাম সংক্রমণ। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অত্যন্ত সংক্রামক এই ভাইরাসজনিত রোগটি অবহেলা করলে মারাত্মক জটিলতা এমনকি মৃত্যুও ঘটাতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে দেশের বিভিন্ন জেলায় হাম রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি, অপুষ্টি এবং সচেতনতার অভাব এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. রাশেদ মাহমুদ জানান, “হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা বাতাসের মাধ্যমে সহজেই ছড়ায়। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে তার আশেপাশের ৯০ শতাংশ অ-টিকাপ্রাপ্ত মানুষ সংক্রমিত হতে পারেন।”

হাম রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হওয়া দেখা যায়। কয়েকদিন পর সারা শরীরে লাল ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং মস্তিষ্কে সংক্রমণ (এনসেফালাইটিস) হতে পারে, যা জীবনহানির ঝুঁকি বাড়ায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা World Health Organization জানায়, ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯০ লাখ মানুষ হাম রোগে আক্রান্ত হয়েছে এবং প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই ৫ বছরের কম বয়সী শিশু। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ায় হাম রোগের ঝুঁকি বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম রোগের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। তবে উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার এবং ভিটামিন ‘এ’ সাপ্লিমেন্ট রোগের জটিলতা কমাতে সহায়তা করে। গুরুতর ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. নাজমা সুলতানা বলেন, “হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা। এমআর (মিজলস-রুবেলা) টিকা শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী গ্রহণ করতে হবে। এতে প্রায় ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত সুরক্ষা পাওয়া যায়।”

সরকার ইতোমধ্যে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি দ্রুত টিকাদান কাভারেজ বাড়ানো না যায়, তবে ভবিষ্যতে হাম বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হতে পারে। তাই এখনই প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করা।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর