ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: ২৫ বছরের সর্বোচ্চ জ্বালানি মূল্যস্ফীতি
ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এক গভীর ধাক্কা সৃষ্টি করেছে, যার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে জ্বালানি খাতে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম The Guardian-এর “business live” প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংঘাতের কারণে বিশ্বে জ্বালানি মূল্যস্ফীতি গত অন্তত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে
ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: ২৫ বছরের সর্বোচ্চ জ্বালানি মূল্যস্ফীতি
ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এক গভীর ধাক্কা সৃষ্টি করেছে, যার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে জ্বালানি খাতে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম The Guardian-এর “business live” প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংঘাতের কারণে বিশ্বে জ্বালানি মূল্যস্ফীতি গত অন্তত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
মার্চ ২০২৬-এ বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে গড় জ্বালানি মূল্যস্ফীতি প্রায় ৫.৫% বেড়েছে, যা ২০২২ সালের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়কার বৃদ্ধিকেও ছাড়িয়ে গেছে।
এটি প্রমাণ করে যে বর্তমান ইরান সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে।
কেন এত বড় মূল্যস্ফীতি হলো
এই মূল্যস্ফীতির মূল কারণগুলো হলো—
১. হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা
ইরান কার্যত Strait of Hormuz-এ জাহাজ চলাচল ব্যাহত বা বন্ধ করে দেয়। এই পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০% তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়, ফলে সরবরাহ হঠাৎ কমে যায়।
২. তেল উৎপাদন ও সরবরাহে বড় ধস
মধ্যপ্রাচ্যের অবকাঠামো হামলা ও পরিবহন সংকটের কারণে বিশ্বে তেল সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগে—এক পর্যায়ে দৈনিক প্রায় ১০ মিলিয়ন ব্যারেল সরবরাহ বিঘ্নিত হয়।
৩. তেলের দামের তীব্র উল্লম্ফন
ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কয়েক মাসে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে $৬০-এর কাছাকাছি থেকে $১১০–$১২০ পর্যন্ত উঠে যায়।
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব
১. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমার আশঙ্কা
ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা কমে গেছে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা দুর্বল হয়েছে।
২. জ্বালানি ব্যয় বাড়ায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি
জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন, খাদ্য উৎপাদন, শিল্প—সব ক্ষেত্রেই খরচ বেড়ে যায়। ফলে সাধারণ পণ্যের দামও বাড়তে শুরু করে।
৩. চাহিদা কমে যাওয়ার ঝুঁকি
উচ্চ দামের কারণে বিশ্বে তেলের চাহিদা কমে যেতে পারে—যা কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ের মতো আরেকটি বড় সংকেত।
৪. উন্নয়নশীল দেশগুলো বেশি ঝুঁকিতে
বাংলাদেশসহ আমদানিনির্ভর দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, কারণ তাদের জ্বালানি আমদানি ব্যয় দ্রুত বেড়ে যায়।
কর্পোরেট ও বাজার প্রতিক্রিয়া
এই সংকটের মধ্যেও কিছু বড় জ্বালানি কোম্পানি লাভবান হয়েছে। যেমন—BP জানিয়েছে, তেলের দাম ও বাজার অস্থিরতার কারণে তাদের ট্রেডিং মুনাফা “exceptional” পর্যায়ে পৌঁছেছে। একইসঙ্গে আর্থিক বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে, শেয়ারবাজারে চাপ তৈরি হয়েছে এবং সরকারি ঋণের খরচও বাড়ছে।
ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি
বিশ্লেষকদের মতে, যদি সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে যাতে বিশ্বে মন্দার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।তবে যুদ্ধবিরতি বা আলোচনার অগ্রগতি হলে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে
ইরান যুদ্ধের প্রভাব শুধু সামরিক বা রাজনৈতিক নয়—এটি এখন একটি পূর্ণাঙ্গ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে। গত ২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় জ্বালানি মূল্যস্ফীতি দেখিয়ে দিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা এখনও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি।
সংবাদ বিশ্লেষণ : এস গোস্বামী