বাবার লাশের পাশে সন্তানের মৃত্যু: লেবাননে ভয়ংকর ইজরায়েলি হামলা

দক্ষিণ লেবাননের স্রিফা (Srifa) গ্রামে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায়, নিজের বাবার জানাজায় অংশ নিতে গিয়ে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয় প্রায় দেড় বছর বয়সী শিশুকন্যা তালিন সাঈদ। হামলাটি ঘটে যখন পরিবারটি তার বাবার দাফন সম্পন্ন করছিল। এই হামলায় একই পরিবারের অন্তত চারজন নিহত হন

PostImage

বাবার লাশের পাশে সন্তানের মৃত্যু: লেবাননে ভয়ংকর ইজরায়েলি হামলা


দক্ষিণ লেবাননের স্রিফা (Srifa) গ্রামে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায়, নিজের বাবার জানাজায় অংশ নিতে গিয়ে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয় প্রায় দেড় বছর বয়সী শিশুকন্যা তালিন সাঈদ। হামলাটি ঘটে যখন পরিবারটি তার বাবার দাফন সম্পন্ন করছিল। এই হামলায় একই পরিবারের অন্তত চারজন নিহত হন—শিশুটির পাশাপাশি আরও তিনজন আত্মীয়, যাদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যও ছিলেন। আহত হয় সাত বছর বয়সী আরেক কন্যা শিশু, যার অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। 

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এই হামলা ছিল আকস্মিক এবং কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই পরিচালিত হয়। নিহত শিশুটির দাদা নাসের সাঈদ জানান, তারা যখন জানাজার পর প্রার্থনা করছিলেন, ঠিক তখনই বিস্ফোরণ ঘটে। তিনি এই ঘটনাকে “নিরীহ মানুষের ওপর সরাসরি হামলা” হিসেবে বর্ণনা করেন। 

এই ঘটনাটি ঘটে এমন এক সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল এবং অনেক লেবানিজ নাগরিক আশা করেছিলেন সহিংসতা কমবে। কিন্তু বাস্তবে সেই সময়েও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকে। শুধুমাত্র ওই সময়কার ধারাবাহিক হামলাতেই লেবাননজুড়ে ৩৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

এছাড়া চলমান ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতে সামগ্রিকভাবে মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে লেবাননে মোট নিহতের সংখ্যা প্রায় ১,৯৫০ ছাড়িয়েছে এবং আহত হয়েছে ৬,০০০-এর বেশি মানুষ। এই হতাহতের বড় অংশই বেসামরিক নাগরিক, যার মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। 

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহ সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে এবং বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা কমানোর চেষ্টা করছে। তবে মানবাধিকার সংস্থা ও স্থানীয়রা অভিযোগ করছে, বহু হামলাই জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পরিচালিত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। 

এই হামলার পর আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিভিন্ন দেশ ও ধর্মীয় নেতারা, বিশেষ করে পোপ, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এখনো পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির কোনো কার্যকর অগ্রগতি দেখা যায়নি, ফলে লেবাননে মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। 

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর