ইরান চুক্তি করতে চায় - দাবী ডোনাল্ড ট্রাম্প, অন্যদিকে অবরোধ নিয়েও দিয়েছেন কঠোর বার্তা
ট্রাম্প একদিকে দাবি করেন, ইরান এখনও আলোচনায় ফিরে আসতে আগ্রহী এবং “চুক্তি করতে চায়”, তবে অন্যদিকে তিনি কঠোর অবস্থান বজায় রেখে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেবে না
ইরান চুক্তি করতে চায় - দাবী ডোনাল্ড ট্রাম্প, অন্যদিকে অবরোধ নিয়েও দিয়েছেন কঠোর বার্তা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নতুন এক বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে, যেখানে কূটনৈতিক আলোচনা ভেঙে পড়ার পর সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধ কার্যকর করা হবে। এই প্রণালীটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ, যার মাধ্যমে বৈশ্বিক তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ হয়। ফলে এই সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
ট্রাম্প একদিকে দাবি করেন, ইরান এখনও আলোচনায় ফিরে আসতে আগ্রহী এবং “চুক্তি করতে চায়”, তবে অন্যদিকে তিনি কঠোর অবস্থান বজায় রেখে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেবে না। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, অবরোধের কাছাকাছি আসা ইরানি নৌযানগুলোকে “ধ্বংস করে দেওয়া হবে”। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে ইরানের বন্দরগামী জাহাজগুলোর ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরোপ শুরু করেছে।
অন্যদিকে, ইরান এই পদক্ষেপকে সরাসরি “সামুদ্রিক দস্যুতা” হিসেবে আখ্যা দিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না যদি তাদের ওপর চাপ অব্যাহত থাকে। একই সময়ে, মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, অবরোধ মূলত ইরানি বন্দরগামী জাহাজের ওপর প্রযোজ্য হবে এবং অন্যান্য দেশের জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে না।
এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। তেলের দাম ইতোমধ্যে ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ন্যাটো মিত্ররা এই অবরোধে সরাসরি অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, যা পশ্চিমা জোটের ভেতরেও বিভাজনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে, একদিকে আলোচনার সম্ভাবনা উন্মুক্ত থাকলেও অন্যদিকে সামরিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক চাপ—দুইয়ের সমন্বয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই আরও অনিশ্চিত ও জটিল হয়ে উঠছে।
সূত্র: The guardian, reuters