অ্যাটর্নি জেনারেলকে ঘিরে অভিযোগপত্র বিতর্ক: জিডির পর হুমকির অভিযোগ আইনজীবী ইব্রাহিম খলিলের
বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া একটি অভিযোগপত্র, সেই অভিযোগ নিয়ে ফেসবুক পোস্ট, শাহবাগ থানায় জিডি এবং পরবর্তীতে হুমকির অভিযোগ—সব মিলিয়ে নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ বি এম ইব্রাহিম খলিল। তিনি দাবি করছেন, সত্যতা জানতে চাওয়ার কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেলকে ঘিরে অভিযোগপত্র বিতর্ক: জিডির পর হুমকির অভিযোগ আইনজীবী ইব্রাহিম খলিলের
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি আলোচিত অভিযোগপত্রকে কেন্দ্র করে দেশের আইন অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল-এর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সংবলিত একটি চিঠি ফেসবুকে শেয়ার করায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ বি এম ইব্রাহিম খলিল-এর নাম উল্লেখ করে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এর পরপরই তিনি অজ্ঞাত নম্বর থেকে হুমকি পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
কী নিয়ে বিতর্ক?
গত ১০ জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অভিযোগপত্র ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগপত্রটি আইন মন্ত্রণালয় ও প্রধান বিচারপতির উদ্দেশ্যে লেখা বলে দাবি করা হয়।
তবে পরবর্তীতে অভিযোগপত্রে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের প্রকৃত মালিক ফিরোজ আহম্মেদ দাবি করেন, চিঠিতে ব্যবহৃত নাম, স্বাক্ষর কিংবা অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি নিজের নম্বর জালিয়াতির অভিযোগে বংশাল থানায় পৃথক একটি জিডি করেন।
অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের অবস্থান
অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে শাহবাগ থানায় দায়ের করা জিডিতে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগপত্রটি মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, অভিযোগপত্রে যেসব ঘটনার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে সময়গত অসঙ্গতি রয়েছে।
কার্যালয়ের দাবি, অভিযোগে জানুয়ারি মাসে অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে অর্থ গ্রহণের কথা বলা হলেও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন চলতি বছরের ২৫ মে। এছাড়া চিঠিতে সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রম ও কজলিস্ট সম্পর্কেও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
ইব্রাহিম খলিলের বক্তব্য
জিডিতে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে আইনজীবী এ বি এম ইব্রাহিম খলিল দাবি করেন, তিনি অভিযোগপত্রটির সত্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি শেয়ার করেছিলেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তিনি কেবল জানতে চেয়েছিলেন অভিযোগের বাস্তবতা কী। তিনি বলেন, কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হলে তার ব্যাখ্যা চাওয়া নাগরিকের অধিকার এবং সেটিকে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় উপস্থিতি ও বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয়ে লেখালেখির কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
নতুন করে হুমকির অভিযোগ
রোববার নিজের ফেসবুক পোস্টে ইব্রাহিম খলিল দাবি করেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের জিডির পর থেকে বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
পোস্টে তিনি লেখেন, “গতকাল বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল আমার নাম উল্লেখ করে শাহবাগ থানায় জিডি করেছেন। তারপর থেকে অচেনা অনেক মোবাইল নম্বর থেকে আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি আজ সকালে আমার বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনদের বিষয়টি জানিয়েছি। আমার যদি কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়, তাহলে তার জন্য মাননীয় অ্যাটর্নি জেনারেল দায়ী থাকবেন।”
তবে এই হুমকির অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পরিচয় জালিয়াতির অভিযোগ
এদিকে অভিযোগপত্রে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের মালিক ফিরোজ আহম্মেদ জানিয়েছেন, তার নম্বর ব্যবহার করা হলেও চিঠির নাম, স্বাক্ষর কিংবা বিষয়বস্তুর সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি আইন মন্ত্রণালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তদন্তের অপেক্ষায়
পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে—
- অভিযোগপত্রটির প্রকৃত উৎস কে?
- অভিযোগপত্রে উত্থাপিত তথ্যগুলোর বাস্তবতা কতটুকু?
- পরিচয় ব্যবহার ও জালিয়াতির অভিযোগের পেছনে কারা জড়িত?
আইনজীবী ইব্রাহিম খলিলের বিরুদ্ধে করা জিডি, তার পাল্টা হুমকির অভিযোগ এবং অভিযোগপত্রে ব্যবহৃত পরিচয় জালিয়াতির বিষয়গুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফলের দিকে এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।