সক্রিয়তা বাড়ছে আওয়ামী লীগের কর্মীদের, দেশের বিভিন্ন স্থানে বাড়ছে মিছিল

দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পরও নেতাকর্মীদের প্রকাশ্য কর্মকাণ্ড ও মিছিলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে সীমিত রাজনৈতিক তৎপরতার পর বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় দলটির সমর্থক ও কর্মীদের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল এবং গোপনীয় সাংগঠনিক বৈঠকের খবর পাওয়া যাচ্ছে। নেতাকর্মীদের দেওয়া শেখ হাসিনার দেশে ফেরার যে ক্ষুদে বার্তা তাতেই উজ্জীবিত হয়ে মাঠে নামছে বলে মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক

PostImage

সক্রিয়তা বাড়ছে আওয়ামী লীগের কর্মীদের, দেশের বিভিন্ন স্থানে বাড়ছে মিছিল


দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পরও নেতাকর্মীদের প্রকাশ্য কর্মকাণ্ড ও মিছিলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে সীমিত রাজনৈতিক তৎপরতার পর বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় দলটির সমর্থক ও কর্মীদের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল এবং গোপনীয় সাংগঠনিক বৈঠকের খবর পাওয়া যাচ্ছে। নেতাকর্মীদের দেওয়া  শেখ হাসিনার দেশে  ফেরার যে ক্ষুদে বার্তা তাতেই উজ্জীবিত হয়ে মাঠে নামছে বলে মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিভিন্ন দলের পুনর্গঠন কার্যক্রম এবং মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের মধ্যে সংগঠনকে সক্রিয় রাখার প্রবণতা আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদেরও নতুন করে সক্রিয় হওয়ার প্রেরণা জুগিয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি আয়োজনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, রাজধানীর বাইরে কয়েকটি জেলায় আওয়ামী লীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা সাংগঠনিক বৈঠক, মতবিনিময় সভা এবং বিভিন্ন ইস্যুতে মিছিলের আয়োজন করেছেন। এসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা দলীয় কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত করা, রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরা এবং সাংগঠনিক যোগাযোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন।

তবে এসব কর্মসূচিকে ঘিরে বিভিন্ন স্থানে প্রশাসনের অনুমতি, নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও আলেচনা - সমালোচনা তৈরি হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে মিছিল বা সমাবেশকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যদিও অধিকাংশ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।

আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি পালন করা সাংবিধানিক অধিকার। তাদের দাবি, দলীয় নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।

অন্যদিকে সরকারের সমালোচক ও প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা দাবি করছেন, আওয়ামী লীগের এই পুনঃসক্রিয়তা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তাদের মতে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যেন শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, আগামী মাসগুলোতে আওয়ামী লীগের মাঠ পর্যায়ের এই সক্রিয়তা অব্যাহত থাকলে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রকৃত তাৎপর্য ও রাজনৈতিক প্রভাব মূল্যায়নের জন্য আরও সময় প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা যেন সংঘাতের পরিবর্তে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, সে বিষয়েও তারা গুরুত্বারোপ করছেন।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর