ভারতের ইমিগ্রেশনে জটিলতা: আইওআরএ বৈঠকে যোগ না দিয়েই ফিরলেন জাহেদ উর রহমান
🔴 দিল্লি বিমানবন্দরে আড়াই ঘণ্টা আটকে রাখা হলো প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে! কূটনৈতিকভাবে আগাম অবহিত করার পরও কেন প্রবেশে বাধা দিল ভারত? অনুমতি পাওয়ার পরও কেন দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি? ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে কূটনৈতিক মহলে।
ভারতের ইমিগ্রেশনে জটিলতা: আইওআরএ বৈঠকে যোগ না দিয়েই ফিরলেন জাহেদ উর রহমান
দিল্লিতে প্রবেশে বাধা, কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফিরলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান
ঢাকা, সোমবার: ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রবেশে বাধার মুখে পড়ে কলম্বো হয়ে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। সোমবার সকালে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। কলম্বোস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, ফ্লাইটটি দুপুর ১২টার আগেই ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জাহেদ উর রহমানকে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনাটি নিয়ে সরকার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে। গতকাল ঠিক কী ঘটেছিল এবং কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তা পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পত্রের মাধ্যমে আগাম অবহিত করার পরও রোববার সন্ধ্যায় ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ‘রহস্যজনক কারণে’ জাহেদ উর রহমানকে দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। পরে উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে তাঁর প্রবেশের অনুমোদন দেওয়া হলেও তিনি দিল্লিতে অবস্থান না করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
সূত্র জানায়, রোববার রাতেই তিনি এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর উদ্দেশে রওনা হন। সোমবার ভোরে কলম্বো পৌঁছে সেখানে কিছু সময় অবস্থান করার পর সকাল আটটার দিকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন।
জানা গেছে, সোমবার থেকে দিল্লিতে শুরু হওয়া ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ)-এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুই দিনের বৈঠকে অংশ নিতে তিনি দিল্লি গিয়েছিলেন। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসেবে তাঁর অংশগ্রহণের বিষয়ে গত শুক্রবার দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছিল।
কিন্তু দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাঁকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করিয়ে রাখে। এ সময় তাঁকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার পরিপ্রেক্ষিতে জাহেদ উর রহমান দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। পরে উচ্চ পর্যায় থেকে অনুমোদনের বার্তা এলেও তিনি দিল্লিতে প্রবেশ না করে কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফিরে আসেন।
এ ঘটনায় ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের সরকারি পর্যায়ে বিষয়টির ব্যাখ্যা জানতে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগাম আনুষ্ঠানিক অবহিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক বৈঠকে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে সফরে থাকা একজন উচ্চপদস্থ সরকারি প্রতিনিধিকে বিমানবন্দরে আটকে রাখার ঘটনা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তবে এ বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।