অক্টোবরেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, তিন ব্যাংকে ভাতা পাবে ৪১ লাখ পরিবার।
নিম্ন আয়ের নারীপ্রধান পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিতে নতুন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করছে সরকার। আগামী অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে ৪১ লাখ পরিবারকে এই কার্ড দেওয়া হবে। উপকারভোগীরা রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবেন।
অক্টোবরেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, তিন ব্যাংকে ভাতা পাবে ৪১ লাখ পরিবার।
দেশের নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি আগামী অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে শুরু হচ্ছে। প্রথম ধাপে ৪১ লাখ পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পঞ্চম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উপকারভোগীদের প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। এই অর্থ বিতরণ করবে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি)। দেশের ৪৯৮ উপজেলায় তিন ব্যাংকের ৩ হাজার ৭২টি শাখার মাধ্যমে ভাতা পৌঁছে দেওয়া হবে।
সরকার জানিয়েছে, আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে সরকারি চাকরিজীবী, পেনশনভোগী, উচ্চমূল্যের সঞ্চয়পত্রধারী এবং গাড়ির মালিকসহ বিভিন্ন কারণে ৫ হাজার ৯৩৪টি পরিবারকে অযোগ্য হিসেবে বাদ দেওয়া হয়েছে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, প্রকৃত দরিদ্র যেন বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ যেন অন্তর্ভুক্ত না হন, সে জন্য তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ ও যাচাই করা হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে উপকারভোগীদের তথ্য যাচাই করা হবে। অভিযোগ পেলে পুনরায় তদন্তের ব্যবস্থাও থাকবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন হবে। এ জন্য নতুন সফটওয়্যার ও মোবাইল অ্যাপও প্রস্তুত করা হয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা। সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থায় নিয়ে আসতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছরে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা।