চীন কি ভারতের বিকল্প হতে পারবে বাংলাদেশের জন্য?
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের ভূরাজনীতিতে এসেছে বড় পরিবর্তন। ভারতে অবস্থান করছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্যদিকে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম বিদেশ সফরের জন্য বেছে নিয়েছেন চীনকে। কিন্তু চীনের কাছ থেকে প্রত্যাশিত বড় অর্থায়ন না আসায় তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন। ভারত ও চীনের প্রতিযোগিতার মাঝে বাংলাদেশ কোন পথে হাঁটছে?
চীন কি ভারতের বিকল্প হতে পারবে বাংলাদেশের জন্য?
তিস্তা থেকে মেগা প্রকল্প: চীনের অর্থায়নে কেন ধীরগতি, আর ভারতকে কতটা ভারসাম্যে রাখতে পারবে ঢাকা?
বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নের গত এক দশকের ইতিহাসে চীনের ভূমিকা অস্বীকার করার উপায় নেই। পদ্মা সেতুর মূল কাঠামো ও নদীশাসন, পদ্মা রেল সংযোগ, কর্ণফুলী টানেল, বিদ্যুৎ ও সঞ্চালন অবকাঠামোসহ একাধিক বড় প্রকল্পে চীনা অর্থায়ন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে একটি পরিবর্তন স্পষ্ট।
চীন এখনো বাংলাদেশের বড় অংশীদার, কিন্তু আগের মতো নির্বিচারে বড় অঙ্কের ঋণ দেওয়ার অবস্থানে নেই।
এই পরিবর্তনের পেছনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন, প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা, ঋণের অর্থনৈতিক ঝুঁকি, চীনের নিজস্ব অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত ভূরাজনীতি—সবকিছুই কাজ করছে।
২০১৬ সালের পর চীনের অর্থায়নে যে উত্থান
২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping বাংলাদেশ সফর করেন। এরপর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক দ্রুত সম্প্রসারিত হয়।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৫ সাল থেকে বাংলাদেশকে চীন ঋণ ও অনুদান মিলিয়ে প্রায় ১১.০৪ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
অর্থাৎ প্রায় ১ হাজার ১০৪ কোটি ডলার।
এই অর্থের বড় অংশের commitment এসেছে ২০১৬ সালের পর থেকে।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে।
Commitment আর actual disbursement এক জিনিস নয়।
চুক্তি হওয়ার পর প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি, procurement, land acquisition, counterpart funding এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ অনুযায়ী অর্থ ছাড় হয়।
এই কারণেই চীনের মোট প্রতিশ্রুত অর্থ এবং বাস্তবে ছাড় হওয়া অর্থের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
কিন্তু এরপর কেন গতি কমল?
এখানে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমত, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশে বড় প্রকল্পগুলোর অগ্রাধিকার, মূল্যায়ন এবং অর্থায়ন কাঠামো নতুন করে পর্যালোচনা হয়েছে।
অর্থনৈতিক অস্থিরতা, নির্বাচন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতিও বিদেশি অর্থায়নের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে।
তবে এটাকে শুধু রাজনৈতিক কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না।
দ্বিতীয়ত, চীনের নিজের ঋণনীতি বদলেছে
চীন এখন বিদেশে বড় অবকাঠামো প্রকল্পে আগের তুলনায় বেশি সতর্ক।
বিশেষ করে যেসব প্রকল্পের অর্থনৈতিক return পরিষ্কার নয় অথবা ঋণ পরিশোধের ঝুঁকি বেশি, সেগুলোতে Beijing আগের মতো দ্রুত commitment দিতে চাইছে না।
অর্থাৎ,
China is still investing abroad, but it is becoming more selective.
এটাই বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।
তিস্তা প্রকল্প: চীন কি পিছিয়ে গেল?
এখানেই সবচেয়ে বেশি ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীর পানি ব্যবস্থাপনা, নদীভাঙন রোধ, সেচ, নৌপথ এবং বন্যা ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
চীন এর আগে এই প্রকল্পে আগ্রহ দেখিয়েছিল।
২০২৬ সালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের আগে বাংলাদেশে প্রত্যাশা ছিল—চীন হয়তো তিস্তা প্রকল্পের অর্থায়ন নিয়ে বড় ঘোষণা দিতে পারে।
কিন্তু সফরে চূড়ান্ত বড় ঋণচুক্তি হয়নি।
বরং চীন তিস্তা প্রকল্পে technical assistance এবং feasibility-related support দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। চীনা পানি সম্পদমন্ত্রী লি গুওইংয়ের সঙ্গে বৈঠকেও নদী ব্যবস্থাপনা, erosion control, irrigation, navigation এবং flood management নিয়ে আলোচনা হয়।
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
চীন তিস্তা থেকে বেরিয়ে যায়নি; কিন্তু সরাসরি বড় অঙ্কের অর্থায়নে যাওয়ার আগে প্রকল্পটিকে নতুন করে মূল্যায়ন করতে চাইছে।
অর্থাৎ এখন পথটা হতে পারে:
Feasibility → Technical assessment → Project design → Financing structure → Loan/Investment agreement
এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগবে।
তাহলে তারেক রহমানের চীন সফরের ফলাফল কী?
এখানেও শুধু তিস্তা দিয়ে সফরটির মূল্যায়ন করলে ভুল হবে।
২০২৬ সালের জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। দুই দেশের সরকার অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, পানি ব্যবস্থাপনা, মিডিয়া এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর কথা জানিয়েছে।
চীনা প্রেসিডেন্ট Xi Jinping-এর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকও হয়েছে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, চীনা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্ভাব্য বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। একটি প্রতিবেদনে ১২টি চীনা কোম্পানির প্রায় ৯.২১ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে।
তাই বলা যায়,
চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক কমছে না; সম্পর্কের চরিত্র বদলাচ্ছে।
চীনের জন্য বাংলাদেশ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
এখানে বাংলাদেশের ভূগোল সবচেয়ে বড় সম্পদ।
বাংলাদেশ চীন ও ভারতের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ বঙ্গোপসাগরীয় দেশ।
চীনের জন্য বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কারণে:
প্রথমত, বঙ্গোপসাগর।
দ্বিতীয়ত, দক্ষিণ এশিয়ার বাজার।
তৃতীয়ত, manufacturing এবং supply chain।
চতুর্থত, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের connectivity।
পঞ্চমত, বাংলাদেশের ১৭ কোটির বেশি মানুষের বাজার এবং উৎপাদন সক্ষমতা।
বাংলাদেশের সরকারি বেইজিং মিশনের তথ্য অনুযায়ী, চীন বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় trading partner এবং বাংলাদেশের শিল্পের জন্য বিপুল পরিমাণ raw materials ও machinery সরবরাহ করে।
তবে এখানেই একটি বড় দুর্বলতা আছে।
বাংলাদেশ চীন থেকে অনেক বেশি আমদানি করে, কিন্তু চীনে বাংলাদেশের রপ্তানি তুলনামূলকভাবে খুব কম।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ চীন থেকে প্রায় ১৮.৫৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, বিপরীতে চীনে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল মাত্র ৬৯৪.৫ মিলিয়ন ডলার।
অর্থাৎ চীন বাংলাদেশের জন্য বিশাল বাজার হলেও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ভারসাম্য ভয়াবহভাবে বাংলাদেশের বিপক্ষে।
তাহলে চীন কি ভারতকে মোকাবিলায় বাংলাদেশের বিকল্প?
না। অন্তত সরাসরি নয়।
এটাই এই পুরো আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বাংলাদেশ চাইলে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে পারে।
কিন্তু চীনকে ব্যবহার করে ভারতের প্রভাব সম্পূর্ণভাবে প্রতিস্থাপন করা বাস্তবসম্মত নয়।
কারণ ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী।
দুই দেশের সীমান্ত প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটারের কাছাকাছি।
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের রয়েছে:
- সীমান্ত বাণিজ্য
- স্থলবন্দর
- রেল যোগাযোগ
- নৌপথ
- বিদ্যুৎ সহযোগিতা
- জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহ
- নদীর পানি
- নিরাপত্তা সহযোগিতা
- আঞ্চলিক connectivity
- মানুষের যাতায়াত
অর্থাৎ ভারতের প্রভাব শুধু অর্থনৈতিক নয়।
ভূগোল নিজেই ভারতের একটি শক্তি।
চীন যত বড় অর্থনৈতিক শক্তিই হোক, বাংলাদেশের সঙ্গে তার ভৌগোলিক সীমান্ত নেই।
ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি কোথায়?
বাংলাদেশের জন্য ভারতের গুরুত্ব বোঝার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো বাণিজ্য ও supply chain।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারত থেকে প্রায় ৯.৬২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, বিপরীতে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল প্রায় ১.৭৬ বিলিয়ন ডলার।
ভারত থেকে বাংলাদেশে আসে তুলা, সুতা, কাপড়, খাদ্যপণ্য, জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামালসহ বহু প্রয়োজনীয় পণ্য।
বিশেষ করে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের supply chain-এর সঙ্গে ভারতের তুলা ও textile sector-এর গভীর সংযোগ রয়েছে।
তাই রাজনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হলেও অর্থনৈতিক বাস্তবতা রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
শেখ হাসিনা ও ভারতের সম্পর্কের প্রভাব
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী Sheikh Hasina ভারতে অবস্থান করছেন এবং বাংলাদেশ তার প্রত্যর্পণ চেয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনার ভারত থেকে বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে আবারও উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
১০ আগস্ট ২০২৬-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতের নতুন হাইকমিশনার ডিনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য একটি conducive environment তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দেখা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ একদিকে চীনের সঙ্গে strategic partnership বাড়াচ্ছে।
অন্যদিকে ভারতকেও পুরোপুরি দূরে ঠেলে দিতে চাইছে না।
এটাই সম্ভবত ঢাকার বাস্তব কৌশল।
তাহলে চীন বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে ভারতের চাপ থেকে কতটা রক্ষা করতে পারবে?
বাস্তব উত্তর হলো:
অর্থনীতিতে — অনেকটা সাহায্য করতে পারে।
চীন বড় বিনিয়োগকারী হতে পারে।
বন্দর, সড়ক, রেল, বিদ্যুৎ, শিল্পাঞ্চল, manufacturing, technology এবং বড় infrastructure project-এ অর্থায়ন করতে পারে।
চীনা কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে production base তৈরি করলে কর্মসংস্থানও বাড়তে পারে।
কূটনীতিতে — গুরুত্বপূর্ণ leverage দিতে পারে।
চীন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য।
আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে Beijing-এর প্রভাব বড়।
বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক যত গভীর হবে, ঢাকার diplomatic options তত বাড়বে।
কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বা রাজনৈতিক shield হিসেবে — সীমিত।
এখানে চীনের সক্ষমতার সীমা রয়েছে।
কারণ ভারত বাংলাদেশের সরাসরি প্রতিবেশী।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত, নদী, বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার সম্পর্ক রয়েছে।
চীন এসব ক্ষেত্রে ভারতের geographic advantage সরিয়ে দিতে পারবে না।
আসল কৌশল হওয়া উচিত China vs India নয়
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত কৌশল হলো:
China + India + Japan + USA + EU + Middle East
সব পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা।
কারণ কোনো একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে।
চীনের কাছ থেকে অবকাঠামো ও manufacturing investment নেওয়া যেতে পারে।
ভারতের কাছ থেকে connectivity, energy, trade এবং regional access নেওয়া যেতে পারে।
জাপানের কাছ থেকে quality infrastructure ও development finance নেওয়া যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজার বাংলাদেশের export economy-এর মূল ভিত্তি হিসেবে রাখা যেতে পারে।
সবচেয়ে বড় শিক্ষা: চীনকে দিয়ে ভারতকে প্রতিস্থাপন নয়, ভারসাম্য তৈরি
বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় সুযোগ হলো strategic diversification।
চীন যদি বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগ করে, তাহলে সেটি ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে না দেখে বাংলাদেশের bargaining power বাড়ানোর উপায় হিসেবে ব্যবহার করা উচিত।
একইভাবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কও এমন হওয়া উচিত নয় যেখানে বাংলাদেশের অর্থনীতি বা রাজনীতি কোনো এক দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
কারণ বাস্তবতা হলো:
চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক ও শিল্প supply partner হতে পারে।
ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক ও আঞ্চলিক partner-দের একজন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ export markets।
আর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হওয়া উচিত নিজের অর্থনীতি, প্রতিষ্ঠান এবং কূটনৈতিক স্বাধীনতা।
শেষ কথা
তিস্তা প্রকল্পে চীনের কাছ থেকে বড় ঋণচুক্তি না আসা তাই শুধু চীনের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার প্রমাণ নয়।
বরং এটি একটি পরিবর্তিত Chinese financing model-এর ইঙ্গিত হতে পারে।
Beijing এখন বলছে না যে আমরা বাংলাদেশ থেকে সরে যাচ্ছি। বরং বার্তাটি অনেকটা এমন: আগে প্রকল্পের viability, feasibility এবং long-term return নিশ্চিত হোক, তারপর বড় অর্থায়ন।
অন্যদিকে তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে চীনকে বেছে নেওয়া এবং সেখানে একাধিক সমঝোতা ও বিনিয়োগ উদ্যোগ দেখাচ্ছে যে নতুন সরকার Beijing-কে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক বিকল্প হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে। সফরটি জুন ২২–২৬, ২০২৬ পর্যন্ত ছিল এবং এটিই ছিল দায়িত্ব নেওয়ার পর তার প্রথম বিদেশ সফর।
কিন্তু চীনকে দিয়ে ভারতকে বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা থেকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।
কারণ চীন বাংলাদেশের জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক ও কৌশলগত partner হলেও, ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী।
আর বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমান নীতি হবে কোনো এক পক্ষের ছায়ায় দাঁড়ানো নয়।
বরং—
China for investment.
India for regional connectivity.
Japan for development.
USA and Europe for markets.
And Bangladesh first in every calculation.
এই ভারসাম্যই হতে পারে বাংলাদেশের পরবর্তী দশকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক কৌশল।