পাকিস্তানে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা: কুশনার–উইটকফকে পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান আলোচনায় নতুন সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের সঙ্গে স্থগিত হয়ে থাকা আলোচনায় গতি আনতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন তাদের ঘনিষ্ঠ দুই প্রতিনিধি—জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে পাকিস্তানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে
পাকিস্তানে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা: কুশনার–উইটকফকে পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান আলোচনায় নতুন সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের সঙ্গে স্থগিত হয়ে থাকা আলোচনায় গতি আনতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন তাদের ঘনিষ্ঠ দুই প্রতিনিধি—জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে পাকিস্তানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সফরের উদ্দেশ্য হলো ইরানের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষ আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংঘাতের সমাধানের পথ খোঁজা।
এই আলোচনায় পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অংশ নিতে পারেন বলে জানা গেছে। এর মাধ্যমে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর চেষ্টা চলছে, বিশেষ করে পূর্ববর্তী দফার আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়ায় পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের পেছনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি বাড়িয়েছে, যা কূটনৈতিক সমাধানের জন্য একটি সময়সীমা তৈরি করেছে। দ্বিতীয়ত, ইরানের পক্ষ থেকেও আলোচনায় আগ্রহের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে—যদিও দুই দেশের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস এখনো বড় বাধা।
তবে এই আলোচনার সাফল্য নিয়ে সংশয়ও রয়েছে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, কুশনার ও উইটকফের নেতৃত্বে পূর্ববর্তী আলোচনা কাঙ্ক্ষিত ফল দেয়নি এবং তাদের কূটনৈতিক দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই দলটি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হলেও জটিল পারমাণবিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু সমাধানে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এই আলোচনায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সরাসরি অংশ নিচ্ছেন না, তবে প্রয়োজন হলে তিনি যুক্ত হতে পারেন। এটি ইঙ্গিত করে যে, যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে আলোচনার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী উচ্চ পর্যায়ের সম্পৃক্ততা বাড়াবে।
এই প্রতিবেদনের আলোকে বলা যায়, পাকিস্তানে কুশনার–উইটকফকে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের একটি “ক্যালকুলেটেড ডিপ্লোম্যাটিক গ্যাম্বল”—অর্থাৎ সীমিত ঝুঁকি নিয়ে বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি অর্জনের চেষ্টা। তবে যুদ্ধবিরতি, পারমাণবিক কর্মসূচি, এবং আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এখনো দূরবর্তী।
ফলে, এই নতুন আলোচনা হয়তো সংকট সমাধানের সুযোগ তৈরি করতে পারে, কিন্তু একইসঙ্গে এটি ব্যর্থ হলে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ঝুঁকিও বহন করছে।