আন্দোলনের মধ্যেই রাজ্যসভায় শক্তি বাড়াল এনডিএ: FCRA বিল পাসের সমীকরণে বড় পরিবর্তন

চলতি অধিবেশনকে ঘিরে যখন শিক্ষা খাতে প্রশ্নপত্র ফাঁস, বিরোধীদের আন্দোলন এবং বিভিন্ন বিতর্কিত ইস্যুতে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে, ঠিক তখনই রাজ্যসভার নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকে উল্লেখযোগ্য সুবিধা এনে দিয়েছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের ফলে উচ্চকক্ষে এনডিএর আসন সংখ্যা ১৩৫ থেকে বেড়ে ১৪১-এ পৌঁছেছে। বিপরীতে INDIA জোটের আসন ৬২ থেকে কমে ৫৮-এ নেমেছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ বিল, বিশেষ করে Foreign Contribution (Regulation) Amendment Bill, 2026 (FCRA Amendment Bill) পাসের পথ আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে

PostImage

আন্দোলনের মধ্যেই রাজ্যসভায় শক্তি বাড়াল এনডিএ: FCRA বিল পাসের সমীকরণে বড় পরিবর্তন


চলতি অধিবেশনকে ঘিরে যখন শিক্ষা খাতে প্রশ্নপত্র ফাঁস, বিরোধীদের আন্দোলন এবং বিভিন্ন বিতর্কিত ইস্যুতে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে, ঠিক তখনই রাজ্যসভার নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকে উল্লেখযোগ্য সুবিধা এনে দিয়েছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের ফলে উচ্চকক্ষে এনডিএর আসন সংখ্যা ১৩৫ থেকে বেড়ে ১৪১-এ পৌঁছেছে। বিপরীতে INDIA জোটের আসন ৬২ থেকে কমে ৫৮-এ নেমেছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ বিল, বিশেষ করে Foreign Contribution (Regulation) Amendment Bill, 2026 (FCRA Amendment Bill) পাসের পথ আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে।

রাজ্যসভার নতুন সমীকরণ

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর রাজ্যসভায় শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন এসেছে।

এনডিএ: ১৩৫ → ১৪১

INDIA জোট: ৬২ → ৫৮

অন্যান্য দল ও নির্দল: বাকি আসন

সংসদীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, সাধারণ আইন পাসের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা তৈরি করেছে। কারণ সাধারণ বিল পাসের জন্য উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতাই যথেষ্ট। ফলে প্রতিটি ক্ষেত্রে বিরোধীদের সমর্থনের ওপর নির্ভরশীলতা আগের তুলনায় কমে এসেছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ FCRA সংশোধনী বিল?

কেন্দ্রীয় সরকার চলতি অধিবেশনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপনের পরিকল্পনা করেছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো FCRA Amendment Bill, 2026। বিলটির মাধ্যমে বিদেশি অনুদান গ্রহণকারী এনজিও ও অন্যান্য সংস্থার ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলোর মধ্যে রয়েছে—

বিদেশি অর্থায়নে অর্জিত সম্পদের ওপর সরকারের তদারকি বৃদ্ধি।

FCRA নিবন্ধন বাতিল বা মেয়াদ শেষ হলে সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ গঠন।

বিদেশি অনুদানের ব্যবহার ও সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

সংশোধিত FCRA বিধিমালার সঙ্গে আইনের সমন্বয়।

পরিসংখ্যান যা বলছে

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী—

২০১৯-২০২২ সময়ে ১৩,৫২০টি সংস্থা প্রায় ₹৫৫,৭৪১ কোটি বিদেশি অনুদান পেয়েছে।

১৫ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত সক্রিয় FCRA নিবন্ধন রয়েছে ১৪,৪৪৯টি।

২২,৪৯৮টি নিবন্ধন বাতিল হয়েছে।

আরও ১৫,২১২টি নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হয়েছে।

বিরোধীদের আপত্তি

বিরোধী দল, মানবাধিকার সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংস্থা অভিযোগ করেছে, নতুন সংশোধনীগুলো নাগরিক সমাজের স্বাধীনতা আরও সীমিত করতে পারে। তাদের দাবি, বিদেশি অনুদাননির্ভর সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ওপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়বে।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, নতুন আইন বিদেশি অর্থায়নের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই আনা হচ্ছে।

সামনে কী?

যদিও রাজ্যসভায় এনডিএর অবস্থান এখন আগের চেয়ে শক্তিশালী, তবুও সাংবিধানিক সংশোধনী পাসের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এখনও তাদের নেই। তবে FCRA-এর মতো সাধারণ বিল পাসের ক্ষেত্রে নতুন সংখ্যার সমীকরণ সরকারকে স্পষ্ট সুবিধা দিচ্ছে এবং বিরোধীদের ওপর নির্ভরশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে।

সংবাদ বিশ্লষন : এস গোস্বামী 

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর