যুদ্ধ নয়, আলোচনাই লক্ষ্য—ইরান নীতিতে ট্রাম্পকে সমর্থন ভ্যান্সের

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, যিনি একসময় বিদেশে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কড়া সমালোচক ছিলেন, বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধকে আলোচনার মাধ্যমে শেষ করার প্রচেষ্টার পক্ষে নতুন করে সাফাই দেন

PostImage

যুদ্ধ নয়, আলোচনাই লক্ষ্য—ইরান নীতিতে ট্রাম্পকে সমর্থন ভ্যান্সের


যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, যিনি একসময় বিদেশে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কড়া সমালোচক ছিলেন, বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধকে আলোচনার মাধ্যমে শেষ করার প্রচেষ্টার পক্ষে নতুন করে সাফাই দেন।

ভার্জিনিয়া বিচের নেভাল এয়ার স্টেশন ওশেনায় কর্মরত সামরিক সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন,

"আজও এই দেশে এমন মানুষ আছেন যারা চান যুদ্ধ চলতেই থাকুক। তারা প্রেসিডেন্টকে সমালোচনা করছেন, কারণ তিনি সামরিক শক্তি থেকে অর্জিত কৌশলগত সুবিধাকে আলোচনার জন্য ব্যবহার করছেন।"

তিনি আরও বলেন,

"আমরা কেন আলোচনা করি? কারণ আপনারা আমাদের সেই শক্তি দিয়েছেন। এটি দুর্বলতার কারণে নয়, বরং শক্তির কারণেই।"

ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে সাবেক মেরিন সদস্য ভ্যান্স যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত "চিরস্থায়ী যুদ্ধ" (forever wars)-এর কঠোর বিরোধী ছিলেন। ইরাকে সামরিক সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি যুদ্ধের সমালোচনা করেছিলেন।

কিন্তু ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের ইরানে সামরিক অভিযানকে সমর্থন করার কারণে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী শান্তি আলোচনার পক্ষে তাকে প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে হয়েছে, যদিও এখনো কোনো চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি হয়নি।

ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে হামলা চালিয়ে দ্রুত একটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। অন্যদিকে রিপাবলিকান দলের কট্টরপন্থীরাও প্রশাসনের সমালোচনা করে বলছেন, সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির শর্ত ইরানের প্রতি অতিরিক্ত নমনীয় এবং তা দেশটির ভবিষ্যৎ পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

ভ্যান্স দাবি করেন, ইরান যুদ্ধকে সমর্থন করা তার আদর্শগত অবস্থান পরিবর্তনের প্রমাণ নয়। তার মতে, তিনি সবসময়ই বিশ্বাস করেছেন যে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে "স্পষ্ট লক্ষ্য" নির্ধারণ করেছিল এবং তা অর্জন করেছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা, সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তি ভেঙে দেওয়া। তবে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী ইরানের সামরিক সক্ষমতা এতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

ইরাকে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ভ্যান্স বলেন,

"কেউ কেউ মনে করেছিলেন, ইরাক যুদ্ধের শিক্ষা হলো আর কখনো সামরিক শক্তি ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু সেটি সঠিক শিক্ষা নয়।"

তিনি আরও বলেন,

"আবার অনেকে আরেকটি ভুল শিক্ষা নিয়েছিলেন—সমস্যার সমাধান হলো সেনাবাহিনীকে আরও বেশি বেশি কাজ করানো, অথচ তাদের সামনে কোনো স্পষ্ট লক্ষ্য না রাখা।"

ভ্যান্স ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোয় মার্কিন সেনাদের প্রশংসা করলেও যুদ্ধ কবে পুরোপুরি শেষ হবে বা সেনা মোতায়েন কবে শেষ হবে—সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি।

বরং তিনি স্বীকার করেন যে ট্রাম্প সামরিক বাহিনীর কাছে আগের প্রেসিডেন্টদের তুলনায় আরও বেশি দায়িত্ব চেয়েছেন।

ভ্যান্স বলেন,

"গত ১৮ মাসে আপনারা যত কাজ করেছেন, আমার মনে হয় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো সামরিক সদস্যদের কাছেই এত বেশি কিছু চাওয়া হয়নি। আর আপনারা সেই দায়িত্ব সফলভাবেই পালন করবেন।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর