বিশ্ব বাণিজ্য ও শান্তি বিনষ্ট করার চেষ্টা করে, তা হলে আমেরিকা ছাড়বেনা
গত জুন মাসে স্বাক্ষরিত হওয়া ঐতিহাসিক অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আবারও মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিল ইরান। আন্তর্জাতিক জলসীমায় তেহরানের একের পর এক উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং বাণিজ্যিক জাহাজে বেআইনি হামলার জেরে অবশেষে ভেঙে পড়েছে বহুল আলোচিত 'ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডাম'। ইরানের এই চুক্তি লঙ্ঘনের জবাবে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের শক্তিমত্তার জানান দিয়ে ইরানের অভ্যন্তরে স্মরণকালের তীব্র বিমান হামলা চালিয়েছে
বিশ্ব বাণিজ্য ও শান্তি বিনষ্ট করার চেষ্টা করে, তা হলে আমেরিকা ছাড়বেনা
গত জুন মাসে স্বাক্ষরিত হওয়া ঐতিহাসিক অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আবারও মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিল ইরান। আন্তর্জাতিক জলসীমায় তেহরানের একের পর এক উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং বাণিজ্যিক জাহাজে বেআইনি হামলার জেরে অবশেষে ভেঙে পড়েছে বহুল আলোচিত 'ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডাম'। ইরানের এই চুক্তি লঙ্ঘনের জবাবে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের শক্তিমত্তার জানান দিয়ে ইরানের অভ্যন্তরে স্মরণকালের তীব্র বিমান হামলা চালিয়েছে।
যেভাবে চুক্তি লঙ্ঘন করল তেহরান
চলতি বছরের ১৭ জুন পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তির মূল শর্তই ছিল—উভয় পক্ষ সব ধরনের সামরিক উস্কানি ও অভিযান থেকে বিরত থাকবে।
কিন্তু ইরান সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ 'হরমুজ প্রণালী'র ওপর জোরপূর্বক নিজেদের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য থেকে অবৈধভাবে টোল আদায়ের উদ্দেশ্যে ৬ এবং ৭ জুলাই তিনটি বাণিজ্যিক মালবাহী জাহাজে অতর্কিত হামলা চালায় ইরানি বাহিনী। আন্তর্জাতিক আইন ও শান্তি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন করে ইরানের এই বেপরোয়া আচরণের পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করতে বাধ্য হন যে, ইরানের সাথে শান্তি চুক্তি "সম্পূর্ণ শেষ"।
আমেরিকার কঠোর জবাব ও ইরানের পাল্টা হামলা
ইরানের এই আগ্রাসন ঠেকাতে এবং আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) তাৎক্ষণিক ও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
মার্কিন বিমান হামলা: মার্কিন ফাইটার জেটগুলো ইরানের উপকূলীয় অঞ্চল ও হরমুজ প্রণালীর আশেপাশে প্রায় ৮০ থেকে ৯০টি ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানে। বন্দর আব্বাস, সিরিক এবং বুশেহর প্রদেশের ইরানি রাডার স্টেশন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়, যাতে ইরান আর কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সাহস না পায়।
ইরানের পাল্টা উস্কানি: নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে ইরান উল্টো বাহরাইন, কুয়েত এবং কাতারে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির ওপর ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে। তবে কুয়েতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ইরানি ড্রোনগুলো মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দেয়।
ক্ষয়ক্ষতি: ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছে। আমেরিকার এই প্রতিরক্ষা ও সতর্কতামূলক হামলাটি এমন এক সময়ে সম্পন্ন হয় যখন ইরান তাদের প্রয়াত শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
বিশ্ব বাণিজ্যে সংকটের কারণ তেহরান
ইরানের এই অবিবেচকমূলক ও আগ্রাসী পদক্ষেপের মাশুল গুনতে হচ্ছে পুরো বিশ্বকে। হরমুজ প্রণালীতে ইরানের উস্কানির কারণে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কয়েকশ বাণিজ্যিক জাহাজ ও প্রায় ৬,০০০ নাবিক সাগরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ব্যারেল প্রতি ৭৭ ডলারে ঠেকেছে, যার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী তেহরানের চুক্তিভঙ্গ।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ইরানের এই চুক্তিভঙ্গের বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে কিছু দ্বিমত থাকলেও, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ চরম উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করছেন। তিনি আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করেই ঘোষণা দিয়েছেন যে, ইরান তাদের এই আগ্রাসী নীতি জারি রাখবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আমেরিকা কোনো দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ চায় না, তবে ইরান যদি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে বিশ্ব বাণিজ্য ও শান্তি বিনষ্ট করার চেষ্টা করে, তবে মার্কিন বাহিনী এর চেয়েও কঠোর জবাব দিতে দ্বিধা করবে না।