বাংলাদেশে ফার্নেস অয়েলের দাম ৩৫% বৃদ্ধি — বিদ্যুৎ, শিল্প ও বাজারে নতুন চাপ

বাংলাদেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ভারী শিল্পে ব্যবহৃত জ্বালানি ফার্নেস অয়েলের দাম এক লাফে বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (BERC) নতুন করে প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ করেছে ৯৪ টাকা ৬৯ পয়সা, যা আগে ছিল ৭০ টাকা ১০ পয়সা। অর্থাৎ প্রতি লিটারে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা বা প্রায় ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন এই দাম মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়েছে বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে

PostImage

বাংলাদেশে ফার্নেস অয়েলের দাম ৩৫% বৃদ্ধি — বিদ্যুৎ, শিল্প ও বাজারে নতুন চাপ


বাংলাদেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ভারী শিল্পে ব্যবহৃত জ্বালানি ফার্নেস অয়েলের দাম এক লাফে বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (BERC) নতুন করে প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ করেছে ৯৪ টাকা ৬৯ পয়সা, যা আগে ছিল ৭০ টাকা ১০ পয়সা। অর্থাৎ প্রতি লিটারে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা বা প্রায় ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন এই দাম মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়েছে বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।  

সংস্থাটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের ব্যয় বাড়ার কারণে এই সমন্বয় করা হয়েছে। মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফার্নেস অয়েলের গড় মূল্য এবং ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় নিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।  

দাম বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ দেশে অনেক তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ফার্নেস অয়েলের ওপর নির্ভরশীল। অর্থনীতিবিদ ও শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের বিল বাড়তে পারে। একই সঙ্গে শিল্পপণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়ায় বাজারে পণ্যমূল্যও বাড়ার চাপ তৈরি হবে।  

এছাড়া ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করে চালিত কারখানা, বয়লার, সিরামিক, টেক্সটাইল, স্টিল ও ছোট বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে। এতে রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, জ্বালানি ব্যয় বাড়লে উৎপাদন কমে যেতে পারে এবং বাজারে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হবে।  

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি বিদ্যুৎ খাতের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে এবং পরোক্ষভাবে পরিবহন, নির্মাণ ও ভোক্তা পণ্যের দামেও প্রভাব ফেলবে। ফলে সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে ব্যয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর