ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে একের পর এক মিত্র হারাচ্ছে কি আমেরিকা
ইউরোপীয় দেশগুলো ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সহযোগিতায় অনীহা দেখিয়েছে। এমনকি ইতালি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানকে তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, যা দীর্ঘদিনের মিত্রতার ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে
ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে একের পর এক মিত্র হারাচ্ছে কি আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর দ্বিতীয় মেয়াদের পররাষ্ট্রনীতি ক্রমেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। বিশেষ করে “America First” নীতির কারণে ঐতিহ্যগত মিত্রদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক দৃশ্যমানভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে এই দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপীয় দেশগুলো ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সহযোগিতায় অনীহা দেখিয়েছে। এমনকি ইতালি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানকে তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, যা দীর্ঘদিনের মিত্রতার ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া ন্যাটো জোটেও গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের কথা বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন, যা জোটটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর যুদ্ধ সমর্থনে অনীহা এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সামরিক পদক্ষেপ এই সংকটকে তীব্র করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও মিত্রদের সঙ্গে পরামর্শের অভাবই এই পরিস্থিতির মূল কারণ। ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে ন্যাটো বা অন্যান্য মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা না করায় তাদের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে।
শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, অর্থনৈতিক নীতিতেও মিত্রদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে। ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কনীতি এবং বাণিজ্যিক চাপের কারণে ইউরোপসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক দুর্বল হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জেপি মর্গান প্রধান জেমি ডাইমন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, মিত্রদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক দুর্বল হলে তা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত মিত্ররা নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে শুরু করেছে। ইউরোপ ও এশিয়ার অনেক দেশ এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজস্ব প্রতিরক্ষা ও জোট কাঠামো শক্তিশালী করার কথা ভাবছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্ব প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী সতর্ক করেছেন যে ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্বকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা শুধু বর্তমান সংকটেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা কাঠামোর ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।