ইরানে ভূপাতিত মার্কিন F-15E যুদ্ধবিমানকে ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও বিশ্লেষকদের মতে, সামগ্রিক পরিস্থিতিতে কৌশলগতভাবে এগিয়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং চাপে রয়েছে ইরান।
খুজেস্তান প্রদেশে সংঘটিত এই ঘটনার পর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) ও বাসিজ বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন ইঙ্গিত করে যে ইরান অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাপের মুখে রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক জিম হ্যানসন জানিয়েছেন, খুজেস্তান অঞ্চলে আরব উপজাতিদের একটি অংশ কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধী। ফলে এই এলাকায় নিখোঁজ মার্কিন পাইলট স্থানীয়দের সহায়তা পেতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে আইআরজিসির সক্রিয় উপস্থিতি উদ্ধার অভিযানকে জটিল করে তুলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ইরান সরকার স্থানীয়দের নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে, যা তাদের উদ্বেগেরই বহিঃপ্রকাশ।
অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, নিখোঁজ ক্রু সদস্য তার প্রশিক্ষণ অনুযায়ী নিরাপদ অবস্থানে থাকার চেষ্টা করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি খোলা এলাকা ছেড়ে দুর্গম স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন, যেখানে শত্রুপক্ষের পৌঁছানো কঠিন। এতে তার নিরাপত্তা বাড়লেও উদ্ধার অভিযান কিছুটা জটিল হয়ে উঠেছে।
অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন বিমান বাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জন টেইকার্ট বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে কোনো নেতিবাচক তথ্য না পাওয়া ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়। তার মতে, নিখোঁজ পাইলট এখনো শত্রুপক্ষের হাতে ধরা পড়েননি এবং নিরাপদ অবস্থানে থাকার চেষ্টা করছেন।
উদ্ধার অভিযানকে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্যের বিষয় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। একদিকে দ্রুত পাইলটকে উদ্ধার করার প্রয়োজন রয়েছে, অন্যদিকে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করলে নতুন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ও কৌশলগতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।
এদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করার দাবি করা হলেও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে উত্তেজনা বাড়ালেও বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কৌশলগতভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে, আর ইরানকে একসঙ্গে সামরিক ও অভ্যন্তরীণ চাপ সামাল দিতে হচ্ছে।