ইরানে স্থল অভিযান কেন প্রায় অসম্ভব—দেশের জনগনের হার না মানষিকতা, আয়তন ও ভৌগলিক অবস্থানই মূল আস্তা
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লেও সামরিক বিশ্লেষকদের বড় অংশই মনে করেন, ইরান-এর ভেতরে সরাসরি স্থল অভিযান চালানো বাস্তবে অত্যন্ত কঠিন, প্রায় অসম্ভব। ইতিহাস, ভৌগোলিক বাস্তবতা ও সামরিক কৌশল—সব মিলিয়ে এই মূল্যায়ন উঠে এসেছে।
ইরানে স্থল অভিযান কেন প্রায় অসম্ভব—দেশের জনগনের হার না মানষিকতা, আয়তন ও ভৌগলিক অবস্থানই মূল আস্তা
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লেও সামরিক বিশ্লেষকদের বড় অংশই মনে করেন, ইরান-এর ভেতরে সরাসরি স্থল অভিযান চালানো বাস্তবে অত্যন্ত কঠিন, প্রায় অসম্ভব। ইতিহাস, ভৌগোলিক বাস্তবতা ও সামরিক কৌশল—সব মিলিয়ে এই মূল্যায়ন উঠে এসেছে।
প্রথমত, ভৌগোলিক বাধা। ইরান একটি বিশাল দেশ, যার আয়তন প্রায় ১৬ লাখ বর্গকিলোমিটার। দেশজুড়ে রয়েছে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, বিশেষ করে Zagros Mountains এবং Alborz Mountains। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ভূপ্রকৃতি বহিরাগত সেনাবাহিনীর জন্য বড় বাধা তৈরি করে, যেমনটি দেখা গেছে আফগানিস্তান-এ দীর্ঘ যুদ্ধের অভিজ্ঞতায়।
দ্বিতীয়ত, ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত চলা Iran-Iraq War-এ ইরান দীর্ঘস্থায়ী স্থল যুদ্ধে টিকে থাকার সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। যুদ্ধের সময় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও ইরান তাদের ভৌগোলিক গভীরতা ও জনবল কাজে লাগিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। বিশ্লেষকরা বলেন, এই অভিজ্ঞতা ইরানকে “defensive warfare”-এ অত্যন্ত শক্তিশালী করে তুলেছে।
তৃতীয়ত, জনবল ও সামরিক কাঠামো। ইরানের নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি রয়েছে Islamic Revolutionary Guard Corps (IRGC), যারা শুধু সামরিক নয়, আদর্শিকভাবেও সংঘবদ্ধ। প্রয়োজনে লাখ লাখ রিজার্ভ ও স্বেচ্ছাসেবক যুদ্ধে অংশ নিতে পারে—যা দীর্ঘমেয়াদি স্থল যুদ্ধে বড় ফ্যাক্টর।
চতুর্থত, সরাসরি প্রবেশের জটিলতা। ইরানে স্থল অভিযান চালাতে হলে প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করতে হবে, যেমন ইরাক বা তুরস্ক। কিন্তু এই ধরনের আঞ্চলিক অনুমতি পাওয়া রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত কঠিন। ২০০৩ সালের Iraq War দেখিয়েছে, একটি দেশ দখল করা সম্ভব হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা আরও কঠিন।
পঞ্চমত, আধুনিক যুদ্ধের বাস্তবতা। বর্তমানে সরাসরি স্থল অভিযানের পরিবর্তে মিসাইল, ড্রোন ও সাইবার যুদ্ধ বেশি কার্যকর বলে বিবেচিত হচ্ছে। ইরান এই খাতে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে, যা সম্ভাব্য আগ্রাসনকে আরও ব্যয়বহুল করে তোলে।
সব মিলিয়ে, বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানে স্থল অভিযান শুধু সামরিক নয়—রাজনৈতিক, ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সরাসরি আক্রমণের বদলে পরোক্ষ সংঘাতই ভবিষ্যতে বেশি সম্ভাব্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।