ইরানে সরকার বিরোধী আন্দোলনে জড়িত ২ জনের ফাঁসি কার্যকর, যার মধ্যে ০১ জন শিক্ষার্থী অন্যজন সাধারন শ্রমজীবী

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে দুই বিক্ষোভকারীকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যা দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, সম্প্রতি ফাঁসি দেওয়া দুই ব্যক্তি হলেন মোহাম্মাদ-আমিন বিগলারি (১৯) ও শাহিন ভাহেদপারাস্ত (৩০)

PostImage

ইরানে সরকার বিরোধী আন্দোলনে জড়িত ২ জনের ফাঁসি কার্যকর, যার মধ্যে ০১ জন শিক্ষার্থী অন্যজন সাধারন শ্রমজীবী


ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে দুই বিক্ষোভকারীকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যা দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, সম্প্রতি ফাঁসি দেওয়া দুই ব্যক্তি হলেন মোহাম্মাদ-আমিন বিগলারি (১৯) ও শাহিন ভাহেদপারাস্ত (৩০)। 

ইরানের বিচার বিভাগের তথ্যমতে, তারা জানুয়ারিতে সংঘটিত সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা একটি সামরিক স্থাপনায় হামলার চেষ্টা এবং অস্ত্রাগারে প্রবেশের পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আদালত তাদের বিরুদ্ধে “রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র” ও “মহান আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ” (মোহরেবেহ) অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। 

তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই বিচারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে আটক ব্যক্তিদের জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়েছে এবং যথাযথ আইনি সহায়তা দেওয়া হয়নি। 

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালের শেষ দিকে শুরু হওয়া দেশব্যাপী আন্দোলন দমনে ইরান সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং রাজনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত সরকার পতনের দাবিতে রূপ নেয় এবং শতাধিক শহরে ছড়িয়ে পড়ে। 

এই প্রেক্ষাপটে চলতি বছরে ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছে। অনেক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিক্ষোভ দমন এবং ভীতি সৃষ্টির কৌশল হিসেবে মৃত্যুদণ্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। 

সার্বিকভাবে, সাম্প্রতিক এই ফাঁসি কার্যকর ঘটনাটি ইরানের চলমান রাজনৈতিক সংকট ও দমন-পীড়নের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর