ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় যুক্তরাষ্ট্রের পাশে পুরোপুরি নেই ইউরোপ—কূটনৈতিক ভারসাম্যের নেপথ্যে কী?

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা ঘিরে যখন যুক্তরাষ্ট্র দৃঢ়ভাবে ইসরায়েলের পাশে অবস্থান নিয়েছে, তখন ইউরোপীয় দেশগুলোর অবস্থান তুলনামূলকভাবে সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ভিন্ন অবস্থানের পেছনে রয়েছে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তাজনিত একাধিক বাস্তবতা।

PostImage

ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় যুক্তরাষ্ট্রের পাশে পুরোপুরি নেই ইউরোপ—কূটনৈতিক ভারসাম্যের নেপথ্যে কী?


মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা ঘিরে যখন যুক্তরাষ্ট্র দৃঢ়ভাবে ইসরায়েলের পাশে অবস্থান নিয়েছে, তখন ইউরোপীয় দেশগুলোর অবস্থান তুলনামূলকভাবে সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ভিন্ন অবস্থানের পেছনে রয়েছে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তাজনিত একাধিক বাস্তবতা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump প্রশাসন স্পষ্টভাবে ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন—বিশেষ করে European Union—সংঘাত প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে কূটনৈতিক সমাধানকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট Emmanuel Macron সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ ইউরোপের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে। তাই সব পক্ষকে সংযত থাকতে হবে।” একই ধরনের বক্তব্য এসেছে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী Annalena Baerbock-এর কাছ থেকেও। তিনি বলেন, “ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ হলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক সংকটে রূপ নিতে পারে।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপের এই অবস্থানের অন্যতম কারণ হলো জ্বালানি নির্ভরতা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপ ইতোমধ্যেই জ্বালানি সংকটে ভুগছে। নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়লে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে, যা ইউরোপীয় অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলবে।

এছাড়া, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করতে ইউরোপ আগ্রহী নয়। বিশেষ করে ২০১৫ সালের Joint Comprehensive Plan of Action (JCPOA) পুনরুজ্জীবনের বিষয়ে ইউরোপ এখনও আশাবাদী। এই চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে মনে করে ইউরোপীয় দেশগুলো।

কূটনীতিকদের মতে, ইউরোপের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও এখানে বড় ভূমিকা রাখছে। অনেক ইউরোপীয় দেশে জনমত যুদ্ধবিরোধী, এবং সরকারগুলো সেই জনমতের বিরুদ্ধাচরণ করতে চায় না। ব্রাসেলসভিত্তিক এক কূটনীতিক বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যেখানে সামরিক সমর্থনকে দ্রুত সমাধান মনে করে, ইউরোপ সেখানে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার কথা চিন্তা করে।”

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানবাধিকার ইস্যু। ইউরোপীয় দেশগুলো গাজা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে এবং ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের সমালোচনাও করেছে। ফলে তারা একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে সমর্থন করতে পারছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে ইউরোপ একটি ‘মধ্যপন্থা’ অনুসরণ করছে—একদিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি সমর্থন, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখা। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ভারসাম্য বজায় রাখাই ইউরোপের জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত কৌশল।

সর্বপরি, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় ইউরোপের এই সতর্ক অবস্থান দেখায় যে, বৈশ্বিক রাজনীতিতে এখন আর একক নেতৃত্ব নয়, বরং বহুমাত্রিক কূটনীতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর