নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান ঘিরে আতঙ্ক, অনিশ্চয়তায় শ্রমজীবী অভিবাসী পরিবারগুলো

নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান ঘিরে নতুন আতঙ্ক, অনিশ্চয়তায় অভিবাসী শ্রমিকরা; অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে কমিউনিটির উদ্বেগ।

PostImage

নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান ঘিরে আতঙ্ক, অনিশ্চয়তায় শ্রমজীবী অভিবাসী পরিবারগুলো


নিউইয়র্কে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের তৎপরতা ও অভিবাসন নীতির পরিবর্তন ঘিরে অভিবাসী শ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যেসব শ্রমিকের অভিবাসন পরিস্থিতি অনিশ্চিত বা যাদের বৈধ কাজের অনুমতির ওপর নির্ভর করে সংসার চলে, তাদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে।


নিউইয়র্কভিত্তিক অভিবাসী সংবাদমাধ্যম ডকুমেন্টেডের ১০ আগস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর কর্মকর্তাদের শরীরে ক্যামেরা ব্যবহারের কার্যক্রম আগস্টের শেষ নাগাদ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই প্রতিবেদনে নিউইয়র্কে অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরা হয়েছে।


অভিবাসী শ্রমিকদের উদ্বেগের আরেকটি কারণ হয়ে উঠেছে সাময়িক সুরক্ষা মর্যাদা বা টিপিএসের পরিবর্তন। ডকুমেন্টেড জানিয়েছে, হাইতির টিপিএসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিউইয়র্কের কয়েকটি ব্যবসায় কর্মরত শ্রমিকদের কাজের অনুমতি আর বৈধ থাকেনি। ব্রুকলিনের এক রেস্তোরাঁ মালিকের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতিতে নয়জন কর্মীকে আর কাজে রাখা সম্ভব হয়নি।


এই পরিস্থিতিতে নিউইয়র্ক নগর কর্তৃপক্ষ অভিবাসীদের অধিকার ও সরকারি সেবা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। 


ফেব্রুয়ারিতে মেয়র জোহরান মামদানি একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যার লক্ষ্য ছিল অভিবাসন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নগরীয় সম্পত্তি, ব্যক্তিগত তথ্য এবং সরকারি সেবার সুরক্ষা জোরদার করা। আদেশে নগর সংস্থাগুলোকে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতার নীতিমালা পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়।


পরবর্তীতে মে মাসে নগর প্রশাসন ওই পর্যালোচনার ফল প্রকাশ করে এবং অভিবাসী নিউইয়র্কবাসীর সুরক্ষা বাড়াতে বিভিন্ন সুপারিশ বাস্তবায়নের কথা জানায়। এর মধ্যে নগর সম্পত্তিতে আইসিইর প্রবেশ, ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং হাসপাতালসহ বিভিন্ন নগর প্রতিষ্ঠানে অভিবাসন-সংক্রান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন নির্দেশনা রয়েছে।


নগর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে অভিবাসীদের সংখ্যা প্রায় ৩১ লাখ। শহরের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি অভিবাসী এবং প্রায় অর্ধেক বাসিন্দা বাড়িতে ইংরেজির বাইরে অন্য কোনো ভাষায় কথা বলেন। ফলে অভিবাসন নীতির পরিবর্তনের প্রভাব শুধু নির্দিষ্ট শ্রমিকগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি শহরের অর্থনীতি, ব্যবসা ও স্থানীয় কমিউনিটির ওপরও ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।


নিউইয়র্কের নগর কর্তৃপক্ষ বলছে, অভিবাসন মর্যাদা নির্বিশেষে বাসিন্দাদের অধিকার রয়েছে। নগরীর অভিবাসী বিষয়ক কার্যালয় বিভিন্ন ভাষায় বিনামূল্যে ও গোপনীয় আইনি সহায়তার তথ্য দিচ্ছে। শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও মজুরি ও কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য থেকে সুরক্ষার অধিকার রয়েছে।


ফলে অভিবাসন অভিযান নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেও নিউইয়র্কের বিভিন্ন কমিউনিটিতে অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা, আইনি সহায়তা এবং সরকারি সেবা পাওয়ার বিষয়ে তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ জোরদার হচ্ছে। অভিবাসী নেতারা মনে করছেন, অনিশ্চয়তার সময়ে সঠিক তথ্য ও আইনি সহায়তা পাওয়াই শ্রমিক ও তাদের পরিবারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর