জর্জিয়ায় অভিবাসন অভিযানে ১,২২৬ জন আটক

জর্জিয়ায় বড় অভিবাসন অভিযানে ১,২২৬ জন আটক, ৭২০ জনের অপরাধের ইতিহাসের দাবি ঘিরে কমিউনিটিতে নতুন করে উদ্বেগ ও উত্তেজনা।

PostImage

জর্জিয়ায় অভিবাসন অভিযানে ১,২২৬ জন আটক


জর্জিয়াজুড়ে সাম্প্রতিক বড় পরিসরের অভিবাসন অভিযানে ১ হাজার ২২৬ জনকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা। ‘অপারেশন সেফ কমিউনিটি আটলান্টা’ নামে পরিচালিত এই অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৭২০ জনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধের অভিযোগ বা দণ্ডের ইতিহাস রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


১০ আগস্ট প্রকাশিত সিবিএস আটলান্টার প্রতিবেদনে বলা হয়, জর্জিয়ার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা ১ হাজার ২২৬ জনকে আটক করেন। আইসিইর ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ৭২০ জনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল অথবা তারা কোনো অপরাধে দণ্ডিত হয়েছিলেন।


কর্তৃপক্ষ যেসব অপরাধের কথা উল্লেখ করেছে, তার মধ্যে যৌন অপরাধ, শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ, হামলা, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, চুরি, অস্ত্রসংক্রান্ত অপরাধ এবং মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর মতো অভিযোগ রয়েছে। আইসিই বলেছে, অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল অপরাধের ইতিহাস থাকা এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আটক করা। অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক ছিলেন। 


আইসিই কয়েকজন আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের পূর্ববর্তী রেকর্ড থাকার কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করেছে। তবে এসব তথ্য মূলত ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে; প্রত্যেক ব্যক্তির মামলার আইনি অবস্থার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।


জর্জিয়ায় অভিবাসন প্রয়োগ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে কমিউনিটিগুলোর মধ্যে উদ্বেগও বেড়েছে। বিশেষ করে অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে আটক অভিযান, কর্মস্থলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের উপস্থিতি এবং পরিবারের সদস্যদের আইনি অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।


আইসিই জানিয়েছে, অভিযানের আওতায় একটি ট্রাক পরিবহন প্রতিষ্ঠানের ঠিকানাতেও পাঁচজনকে আটক করা হয়। সংস্থাটির দাবি, প্রতিষ্ঠানটি অননুমোদিত অভিবাসীদের কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তবে কর্তৃপক্ষ ওই প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করেনি।


ফেডারেল কর্মকর্তারা অভিযানটিকে জননিরাপত্তা রক্ষার অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে অভিবাসী অধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসন অভিযান পরিচালনার পদ্ধতি, আটক ব্যক্তিদের আইনি অধিকার এবং পরিবারের ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন।


জর্জিয়ার সাম্প্রতিক অভিযান তাই শুধু আটকের সংখ্যার কারণে নয়, বরং অভিবাসন আইন প্রয়োগ, অপরাধের ইতিহাস এবং স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির নিরাপত্তা ও অধিকার এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর