আইসিইর হাতে অভিবাসী তরুণ আটক, পাশে দাঁড়াল নিউইয়র্কের পুরো শহর

আইসিইর হাতে হন্ডুরাসের তরুণ আটক, মুক্তির দাবিতে নিউইয়র্কের ছোট শহরে ঐক্যবদ্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা, আইনি সহায়তা ও অর্থ সংগ্রহে এগিয়ে এলেন প্রতিবেশীরা, গড়ে উঠল মানবিক প্রতিরোধ।

PostImage

আইসিইর হাতে অভিবাসী তরুণ আটক, পাশে দাঁড়াল নিউইয়র্কের পুরো শহর


যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ছোট শহর রাইনবেকে এক তরুণ অভিবাসীকে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইসিই) হাতে আটকের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তরুণটির মুক্তি ও আইনি লড়াইয়ে সহায়তার জন্য শহরের বাসিন্দা, পরিচিতজন ও স্থানীয় ব্যক্তিরা একত্রিত হয়েছেন।

আটক তরুণের নাম গারসন তুরসিওস। হন্ডুরাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ২৪ বছর বয়সী তুরসিওস কিশোর বয়সেই নিজ দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। পরে নিউইয়র্কের রাইনবেকে বসতি গড়ে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেন। তিনি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন এবং বাগান পরিচর্যার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে নিজের বাড়ির বাইরে আইসিই কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তুরসিওসের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না। তার আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি দ্রুত স্থানীয় মানুষের আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।

তুরসিওস কিশোর বয়সে হন্ডুরাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দিয়েছিলেন। ১৭ বছর বয়সে রিও গ্রান্ডে নদী সাঁতরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর তাকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত একটি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়। পরে তিনি রাইনবেকে থাকা ভাইয়ের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন। ধীরে ধীরে স্থানীয় সমাজের সঙ্গে তার সম্পর্ক তৈরি হয় এবং কাজের মাধ্যমে নিজের জীবন গড়ে তোলেন।

তবে তার অভিবাসন মামলায় জটিলতা তৈরি হয়। করোনাভাইরাস মহামারির সময় আদালতের কার্যক্রমে পরিবর্তনের কারণে তার মামলাটিও প্রভাবিত হয়। একপর্যায়ে তিনি আদালতের একটি শুনানিতে উপস্থিত হতে পারেননি এবং তার অনুপস্থিতিতেই বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়।

এরপর ২০২৫ সালে আইসিই তাকে আটক করে। আটকের পর তাকে একাধিক আটককেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার ঠেকাতে তার আইনজীবীরা আদালতে আইনি পদক্ষেপ নেন।

তুরসিওসকে আটকের খবর রাইনবেকে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিবেশী ও পরিচিতরা তার পাশে দাঁড়াতে শুরু করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে দীর্ঘদিন ধরে চেনেন এবং তাকে পরিশ্রমী ও শান্ত স্বভাবের তরুণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তার আইনি লড়াইয়ে সহায়তার জন্য অর্থ সংগ্রহ এবং আইনগত সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নাগরিক অধিকারবিষয়ক আইনজীবী গ্রেগরি কোপল্যান্ড তার মামলায় যুক্ত হয়েছেন এবং বহিষ্কার ঠেকাতে জরুরি আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানা গেছে।

স্থানীয় মানুষের কাছে তুরসিওস শুধু একজন অভিবাসী নন; তিনি তাদের পরিচিত একজন তরুণ, যিনি বছরের পর বছর ওই এলাকায় বসবাস করেছেন, কাজ করেছেন এবং স্থানীয় সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। তার আটকের ঘটনায় তাই অনেক বাসিন্দা এটিকে নিজেদের কমিউনিটির একজন সদস্যকে হারানোর মতো ঘটনা হিসেবে দেখছেন।

অভিবাসন নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বিতর্কের মধ্যেই রাইনবেকের এই ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে রয়েছে অভিবাসন আইন ও বহিষ্কার প্রক্রিয়া, অন্যদিকে রয়েছে স্থানীয় মানুষের মানবিক ও সামাজিক সম্পর্কের প্রশ্ন।

বর্তমানে তুরসিওস অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছেন এবং তার ভবিষ্যৎ নিয়ে আইনি অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে দেওয়া হবে, নাকি বহিষ্কারের মুখোমুখি হতে হবে নির্ভর করছে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার ওপর।

একজন তরুণ অভিবাসীর আটকের পর একটি ছোট শহরের বাসিন্দারা যেভাবে আইনি, আর্থিক ও মানবিক সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন, রাইনবেকের ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বাস্তবতার পাশাপাশি স্থানীয় কমিউনিটির সংহতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্রও সামনে এনেছে।