নিউইয়র্কের ৩১ লাখ অভিবাসী শহরের অর্থনীতির বড় শক্তি
নিউইয়র্কে ৩১ লাখ অভিবাসী, শহরের জনসংখ্যার ৩৮ শতাংশ; কর্মশক্তির ৪৩ শতাংশই অভিবাসী, অর্থনীতি ও সমাজে বাড়ছে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান দ্রুত।
নিউইয়র্কের ৩১ লাখ অভিবাসী শহরের অর্থনীতির বড় শক্তি
নিউইয়র্ক নগর কর্তৃপক্ষের নতুন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে শহরের অভিবাসী জনগোষ্ঠীর বিশাল পরিসর ও অর্থনীতিতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান। ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাসকারী বিদেশে জন্মগ্রহণকারী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩১ লাখ। তারা শহরের মোট জনসংখ্যার ৩৮ শতাংশ এবং কর্মশক্তির ৪৩ শতাংশ।
জুন ২০২৬-এ প্রকাশিত ‘দ্য নিউয়েস্ট নিউইয়র্কার্স’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কের অভিবাসী জনগোষ্ঠী শুধু সংখ্যায় বড় নয়, শহরের অর্থনীতি, ব্যবসা, সংস্কৃতি ও শ্রমবাজারেও তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে শহরের বিদেশে জন্মগ্রহণকারী জনসংখ্যা ৩১ লাখে দাঁড়ায়—যা লস অ্যাঞ্জেলেস, হিউস্টন, শিকাগো ও সান হোসের সম্মিলিত বিদেশে জন্মগ্রহণকারী জনসংখ্যার চেয়েও বেশি।
নিউইয়র্কের পাঁচ বরোর প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই অভিবাসী জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি রয়েছে। কুইন্স ও ব্রুকলিনে বিদেশে জন্মগ্রহণকারী মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
ফ্লাশিং-মারে হিল এলাকায় শহরের সবচেয়ে বড় অভিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস। এলমহার্স্ট, করোনা, ইস্ট ফ্ল্যাটবুশ, গ্রেভসেন্ড ও ওয়াশিংটন হাইটসও বড় অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নিউইয়র্কের অভিবাসী জনগোষ্ঠী ক্রমেই বৈচিত্র্যময় হচ্ছে। চীন ও ডোমিনিকান রিপাবলিক শহরের সবচেয়ে বড় বিদেশে জন্মগ্রহণকারী জনগোষ্ঠীর উৎস হিসেবে রয়েছে। এরপর জ্যামাইকা ও মেক্সিকোর অবস্থান। উল্লেখযোগ্যভাবে বাংলাদেশও শহরের সবচেয়ে বড় ১০টি বিদেশে জন্মগ্রহণকারী জনগোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে এবং সপ্তম অবস্থানে উঠে এসেছে।
শ্রমবাজারে অভিবাসীদের অবদান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নগর কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে দেখা যায়, শহরের মোট কর্মশক্তির ৪৩ শতাংশ বিদেশে জন্মগ্রহণকারী। স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতে তাদের উপস্থিতি ব্যাপক। এই খাতে কর্মরত ৫ লাখ ১৯ হাজার কর্মীর ৪৪ শতাংশই বিদেশে জন্মগ্রহণকারী। গৃহভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা খাতেও অভিবাসী শ্রমিকদের বড় ভূমিকা রয়েছে।
খাদ্যসেবা, আবাসন, শিল্প-সংস্কৃতি এবং বিনোদন খাতেও অভিবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নগর কর্তৃপক্ষের হিসাবে, খাবার ও পানীয় এবং পর্যটন-আবাসন সংশ্লিষ্ট খাতে কর্মরতদের প্রায় পাঁচজনের মধ্যে তিনজন অভিবাসী। ফলে নিউইয়র্কের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অভিবাসীদের অবদান সরাসরি দৃশ্যমান।
প্রতিবেদনটি আরও জানায়, নিউইয়র্কের প্রায় অর্ধেক বাসিন্দা বাড়িতে ইংরেজি ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় কথা বলেন। শহরের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বাসিন্দা হয় বিদেশে জন্মগ্রহণকারী, নয়তো অন্তত একজন অভিবাসী অভিভাবকের সন্তান। এর ফলে অভিবাসন শুধু জনসংখ্যার একটি অংশের বিষয় নয়; এটি নিউইয়র্কের সামাজিক কাঠামো ও নগরজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে।
নগর কর্তৃপক্ষের এই প্রতিবেদন নিউইয়র্কে অভিবাসীদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভূমিকার একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে এটি দেখিয়েছে, অভিবাসী জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে নিউইয়র্কের শ্রমবাজার, ব্যবসা ও নগর অর্থনীতির পূর্ণ চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়।