ইবিএল চেয়ারম্যানের অর্থ উদ্ধারে চার সপ্তাহের সুযোগ হারালো বাংলাদেশ!

অর্থপাচারবিরোধী অভিযানে বড় ধাক্কা! যুক্তরাজ্যের দেওয়া আইনি সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় বিদেশে আটকে থাকা ২৫ মিলিয়ন ডলার এখন ইউএইতে। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবিও উঠেছে।

PostImage

ইবিএল চেয়ারম্যানের অর্থ উদ্ধারে চার সপ্তাহের সুযোগ হারালো বাংলাদেশ!


যুক্তরাজ্যের দেওয়া চার সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। ফলে ইস্টার্ন ব্যাংক (ইবিএল)-এর চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২ কোটি ৫০ লাখ (২৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার যুক্তরাজ্য থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) স্থানান্তরিত হয়েছে।


বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর কর্মকর্তাদের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথির বরাত দিয়ে টাইমস অব বাংলাদেশ এ তথ্য প্রকাশ করেছে।


সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, অর্থটি এখন ইউএইতে চলে যাওয়ায় সেটি ফেরত আনার প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে পড়েছে। কারণ এখন বাংলাদেশকে নতুন করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।


কীভাবে সামনে আসে ২৫ মিলিয়ন ডলারের তথ্য?


গত ৮ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মোস্তাকুর রহমান সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জানান, সরকারের অর্থপাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার কর্মসূচির আওতায় বিদেশে থাকা ২৫ মিলিয়ন ডলারের সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং তা দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ চলছে। তবে সে সময় তিনি সম্পদের মালিকের নাম প্রকাশ করেননি।


পরবর্তীতে টাইমস অব বাংলাদেশ-এর অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই অর্থ ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এসএন করপোরেশনের চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।


চার সপ্তাহের সুযোগ দিয়েছিল যুক্তরাজ্য


প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্পদের অনুসন্ধান করতে গিয়ে এই অর্থের সন্ধান পায়।


এনসিএ শওকত আলী চৌধুরীর কাছে অর্থের উৎস সম্পর্কে ব্যাখ্যা চায়। ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে সংস্থাটি অর্থটি চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত (Restrain) করে এবং বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অনুরোধ জানায়।


কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সেই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেনি।


একজন বিএফআইইউ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, চার সপ্তাহের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর শওকত আলী চৌধুরী অর্থটি যুক্তরাজ্য থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্থানান্তর করেন।


এখন ইউএইর সঙ্গে যোগাযোগ


বিএফআইইউ জানিয়েছে, বর্তমানে ইউএই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পাওয়ায় অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে।


কর পরিশোধ করেছেন শওকত আলী


এদিকে, একই সময়ে শওকত আলী চৌধুরী বিদেশে থাকা ওই অর্থ বাংলাদেশের আয়কর রিটার্নে ঘোষণা করেন।


জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে লার্জ ট্যাক্সপেয়ার্স ইউনিটের মাধ্যমে ওই ২৫ মিলিয়ন ডলারের বিপরীতে তিনি ১৩৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করেছেন।


আইনি নোটিশ


ঘটনাটি নিয়ে ১১ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএফআইইউ, এনবিআর, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সিআইডিকে আইনি নোটিশ পাঠান।


নোটিশে অভিযোগ করা হয়, যুক্তরাজ্যের দেওয়া চার সপ্তাহের সুযোগ কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে এই ব্যর্থতার জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানানো হয়।


এ বিষয়ে বিএফআইইউ প্রধান ইকতিয়ারউদ্দিন মো. মামুন জানান, তিনি সরকারি কাজে বিদেশে থাকায় আইনি নোটিশ সম্পর্কে অবগত নন।


অন্যদিকে, শওকত আলী চৌধুরীর মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।