যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সরাসরি বৈঠক পাকিস্তানে, ছয় সপ্তাহের যুদ্ধ শেষের আশায় কূটনৈতিক উদ্যোগ

ছয় সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান অবশেষে সরাসরি আলোচনায় বসেছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। দীর্ঘ বৈরিতার ইতিহাসের পর এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে

PostImage

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সরাসরি বৈঠক পাকিস্তানে, ছয় সপ্তাহের যুদ্ধ শেষের আশায় কূটনৈতিক উদ্যোগ


ছয় সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান অবশেষে সরাসরি আলোচনায় বসেছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। দীর্ঘ বৈরিতার ইতিহাসের পর এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, আর ইরানের পক্ষে নেতৃত্বে রয়েছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ১৯৭৯ সালের পর এটিই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরাসরি যোগাযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। 

এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো সাম্প্রতিক যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির ভিত্তি তৈরি করা। যুদ্ধটি শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের হামলার পর, যা দ্রুত আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেয় এবং হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর বড় প্রভাব পড়ে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। 

তবে আলোচনার পথ মোটেও সহজ নয়। ইরান একাধিক শর্ত দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করা এবং লেবাননে চলমান হামলা বন্ধ করা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করা। 

এর মধ্যেই লেবাননে সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তবুও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বৈঠক সফল হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে এবং বিশ্ববাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।

সব মিলিয়ে, ইসলামাবাদের এই সংলাপ এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে, যার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর