রাশিয়া-ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের নীরবতা
রাশিয়া ইরানকে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য গোয়েন্দা তথ্য ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে থাকতে পারে—এমন দাবি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে এসব অভিযোগের গুরুত্ব কমিয়ে দেখিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে ওয়াশিংটনে তার অবস্থান নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
রাশিয়া-ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের নীরবতা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের মধ্যেই নতুন করে সামনে এসেছে রাশিয়ার সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার অভিযোগ। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য, ইউক্রেনের দাবি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মস্কো তেহরানকে গোয়েন্দা তথ্য, ড্রোন প্রযুক্তি এবং অন্যান্য সামরিক সহায়তা দিয়ে থাকতে পারে।
কিন্তু এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুলনামূলকভাবে সংযত অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তার বিশ্বাস রাশিয়া ও চীন সরাসরি ইরান যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে না, কারণ দেশ দুটির নেতারা তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে তারা ইরানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করছে না।
সম্প্রতি সিনেটের এক শুনানিতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্বীকার করেন যে রাশিয়া ও চীন উভয়ই বিভিন্ন উপায়ে ইরানকে সহায়তা করছে, যার ফলে তেহরান তার সামরিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারছে।
অন্যদিকে, ফিলিপাইনে অনুষ্ঠিত আসিয়ান সম্মেলনে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠকের সময় এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সরাসরি কোনো মন্তব্য এড়িয়ে যান।
এর কিছুদিন পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেন, তার ধারণা রাশিয়া ও চীন যুদ্ধের অংশ নয় এবং তিনি মনে করেন না যে দুই দেশ তাকে হতাশ করবে।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, রাশিয়া ইরানকে মার্কিন ঘাঁটির স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহ করেছে, যা ব্যবহার করে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোকে আরও নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পেরেছে।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, “এতে খুব একটা পার্থক্য হতো না। তবে আমি বিষয়টি নিয়ে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে কথা বলব।”
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN এবং The New York Times-ও গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানায়, রাশিয়া ইরানকে সামরিক গোয়েন্দা তথ্য ও ড্রোন-সম্পর্কিত সহায়তা দিয়ে থাকতে পারে। যদিও ক্রেমলিন এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের রাশিয়া-ইউক্রেনবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, তিনি রাশিয়াকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছিলেন যাতে তারা ইরানকে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণসংক্রান্ত কোনো তথ্য বা সামরিক সহায়তা না দেয়।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প নিজে এখনো প্রকাশ্যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেননি। বরং তিনি বারবার বিষয়টির গুরুত্ব কমিয়ে দেখিয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক সংঘাতে কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পরও ট্রাম্পের সংযত প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বিষয়টি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সেই বিতর্কের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের হত্যা করতে রাশিয়া পুরস্কার ঘোষণা করেছিল বলে গোয়েন্দা তথ্য সামনে এলেও ট্রাম্প তা “ভুয়া খবর” বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।