'মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও বর্তমান সরকারের প্রতি তিনি সব সময় শ্রদ্ধাশীল ছিলেন'—স্পিকার

স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর তাঁকে নিয়ে ইতিবাচক মূল্যায়ন করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও বর্তমান জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রতি মো. সাহাবুদ্দিন সব সময় সমর্থন ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তাঁর সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করেন স্পিকার।

PostImage

'মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও বর্তমান সরকারের প্রতি তিনি সব সময় শ্রদ্ধাশীল ছিলেন'—স্পিকার


রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যে বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবার দেশে ফিরে বিকেল সাড়ে ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সেখানে তিনি জানান, গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন এবং সংবিধান অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে বিদায়ী রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরে স্পিকার বলেন, "আমার মনে হয়, তিনি (মো. সাহাবুদ্দিন) মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও বর্তমানে জনগণের ভোটে যে সরকার নির্বাচিত হয়েছে, তার প্রতি তিনি সমর্থন এবং শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন সব সময়। আমি তাঁর মঙ্গল কামনা করি।"

স্পিকার জানান, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি শুক্রবার বিকেল ৫টা ১ মিনিটে তাঁর স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দেন। পদত্যাগপত্রে গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

রাষ্ট্রপতির শারীরিক অবস্থার বিষয়ে স্পিকার জানান, মো. সাহাবুদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছেন। এর আগে তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তাঁর শরীরে অটোনমিক নিউরোপ্যাথি ধরা পড়েছে, যার কারণে তিনি মাঝেমধ্যে অচেতন হয়ে পড়েন। এসব কারণে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তা জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের নথিতে সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে সৃষ্টি হওয়া জল্পনা-কল্পনার বিষয়ে স্পিকার বলেন, "আজ নানা ধরনের কথাবার্তা শুনছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তিনি শারীরিক অসমর্থতার কারণেই পদত্যাগ করেছেন।"

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির অসুস্থতার বিষয়ে আলাদা কোনো চিকিৎসা সনদের প্রয়োজন নেই, কারণ তিনি নিজেই লিখিতভাবে তাঁর রোগ ও শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়েছেন।

স্পিকারের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে এ বিষয়ে সব ধরনের ধোঁয়াশার অবসান হয়েছে। তিনি বলেন, "রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ একটি সাংবিধানিক বিষয়। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতেই পারেন এবং এই পদ কখনো শূন্য থাকে না। আশা করি, এ নিয়ে সব ধরনের বিভ্রান্তি এখন দূর হবে।"

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর