বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার তাণ্ডব: মৃত ৫১, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ
দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে চলমান ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড় ধসে অন্তত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৩৯ জন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৭ জেলার ৫৮টি উপজেলা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ এবং ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার দুর্ভোগের মুখে পড়েছে
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার তাণ্ডব: মৃত ৫১, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ
দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে চলমান ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড় ধসে অন্তত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৩৯ জন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৭ জেলার ৫৮টি উপজেলা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ এবং ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার দুর্ভোগের মুখে পড়েছে।
বন্যাকবলিত জেলাগুলো হলো চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। পানিবন্দি মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।
জেলাভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে, যেখানে ২৮ জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ১৫ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। খাগড়াছড়ি ও হবিগঞ্জে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও এখন পর্যন্ত মৃত্যুর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় পানি নামতে শুরু করলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ফেনী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে সিলেট অঞ্চলের সুরমা, কুশিয়ারা, খোয়াই ও ধলাই নদীর পানি এখনও বিভিন্ন স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় একাধিক প্রতিরক্ষা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
বন্যাকবলিত এলাকায় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরকার ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তুলনায় ত্রাণ সহায়তা এখনও অপ্রতুল।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ধার, আশ্রয় ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।