সর্ব ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি নিয়ে বিতর্ক; "প্রকাশিত তালিকার অনেককেই চেনেন না ইউরোপের নেতারা"—দাবি অসন্তুষ্ট নেতাকর্মীদের

সর্ব ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের নবঘোষিত প্রায় ১০০ সদস্যের কমিটি প্রকাশের পর ইউরোপজুড়ে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন দেশের একাধিক নেতার দাবি, প্রকাশিত তালিকায় থাকা অনেককেই তারা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কখনও দেখেননি বা চেনেন না। একই সঙ্গে কমিটি গঠনের স্বচ্ছতা, নেতৃত্ব নির্বাচন এবং অফিসিয়াল প্যাড ব্যবহারের বিষয়েও নানা প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

PostImage

সর্ব ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি নিয়ে বিতর্ক; "প্রকাশিত তালিকার অনেককেই চেনেন না ইউরোপের নেতারা"—দাবি অসন্তুষ্ট নেতাকর্মীদের


সর্ব ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের নবগঠিত কমিটি প্রকাশের পর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষের অভিযোগ উঠেছে। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক পরিসরে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

বিদেশে অবস্থানরত নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য ত্যাগ, পরিশ্রম এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা অনেক অভিজ্ঞ নেতাকে এই কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়নি। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপে দলকে সংগঠিত করে আসা অনেক পরিচিত ও পরীক্ষিত সংগঠকের পরিবর্তে এমন অনেক নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের সম্পর্কে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আওয়ামী লীগের নেতারাও অবগত নন।




অসন্তুষ্ট নেতাকর্মীদের ভাষ্য, নবঘোষিত প্রায় ১০০ সদস্যের কমিটির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যক্তিকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দই চিনতে পারছেন না বা তাদের সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে অবগত নন। তাদের মতে, এ বিষয়টি কমিটির প্রতিনিধিত্ব, গ্রহণযোগ্যতা এবং সাংগঠনিক ভিত্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সমালোচকদের আরও অভিযোগ, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সভাপতি এম নজরুল ইসলাম ব্যক্তিগত পছন্দকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তাদের ভাষায়, এটি একটি "পকেট কমিটি" হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে আরেকটি বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেক নেতাকর্মী। তাদের প্রশ্ন, যদি এটি সর্ব ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের কমিটি হয়, তাহলে তা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল প্যাডে প্রকাশ করা হলো কেন? সর্ব ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের কি নিজস্ব অফিসিয়াল লেটারহেড বা প্যাড নেই? যদি থেকে থাকে, তাহলে সেটি ব্যবহার করা হয়নি কেন? আর যদি না থেকে থাকে, তাহলে একটি আন্তর্জাতিক অঙ্গসংগঠনের সাংগঠনিক পরিচয় ও আনুষ্ঠানিকতা কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে?

নেতাকর্মীদের মতে, একটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচালিত সংগঠনের ক্ষেত্রে কমিটি গঠন, অনুমোদন প্রক্রিয়া, সদস্য নির্বাচন এবং অফিসিয়াল নথিপত্র ব্যবহারে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকা জরুরি। তাদের দাবি, এসব বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করা হলে বিভ্রান্তি ও বিতর্ক অনেকাংশে কমে আসবে এবং নেতাকর্মীদের মধ্যেও আস্থা ফিরে আসবে।

তবে এ বিষয়ে সর্ব ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট নেতৃত্ব বা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল কোনো নেতার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে সেটিও সংবাদে যুক্ত করা হবে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর