রোনালদোর বিশ্বকাপ অধ্যায়ের ইতি, তবে অবসর নিয়ে এখনই সিদ্ধান্ত নয়
Cristiano Ronaldo স্বীকার করেছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপই ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। তবে ৪১ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ তারকা জানিয়েছেন, ফুটবল থেকে অবসর নেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না
রোনালদোর বিশ্বকাপ অধ্যায়ের ইতি, তবে অবসর নিয়ে এখনই সিদ্ধান্ত নয়
Cristiano Ronaldo স্বীকার করেছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপই ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। তবে ৪১ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ তারকা জানিয়েছেন, ফুটবল থেকে অবসর নেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না।
জাতীয় দলের হয়ে অভিষেকের ২৩ বছর পর, পর্তুগালের অধিনায়ক হিসেবে তাঁর ২৩৩তম ম্যাচটি শেষ হয় Spain national football team-এর বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে হারে। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর এই পরাজয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় Portugal national football team।
রোনালদো বিদায় নিচ্ছেন এমন এক অনন্য রেকর্ড নিয়ে—বিশ্বকাপের ছয়টি আসরেই গোল করা ইতিহাসের একমাত্র ফুটবলার তিনি।
ম্যাচ শেষে রোনালদো বলেন,
“এভাবে বিদায় নিতে কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু আমি সবসময় আমার সর্বোচ্চটা দিয়েছি। আমি পরিষ্কার বিবেক নিয়েই বিদায় নিচ্ছি। এটাই ফুটবল, এটাই একজন ফুটবলারের জীবন। কখনও জিততে হয়, কখনও হারতে হয়। সামনে এগিয়ে যেতে হয়।”
তিনি আরও বলেন,
“হ্যাঁ, এটিই ছিল আমার শেষ বিশ্বকাপ। কিন্তু ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেব না। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাব, তারপর ভাবব। আবেগের বশে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না।”
রোনালদোর মতে, ২০১৬ সালে UEFA Euro 2016 জয়ের মূল্য তাঁর কাছে বিশ্বকাপ জয়ের সমান।
তিনি বলেন,
“পর্তুগালের হয়ে আমি তিনটি শিরোপা জিতেছি। আমার আগে পর্তুগাল কখনও বড় কোনো ট্রফি জেতেনি। ২০১৬ সালের ইউরো শিরোপাই আমার কাছে বিশ্বকাপের সমান মর্যাদার। তাই আমি শান্ত মন নিয়েই বিদায় নিচ্ছি। আগামীকাল আবার নতুন দিন, জীবন চলতেই থাকবে।”
পর্তুগালের কোচ Roberto Martínez রোনালদোর ভূয়সী প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন,
“আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। তিনি একজন আদর্শ অধিনায়ক। আমি দায়িত্ব নেওয়ার সময় তাঁকে নিয়ে অনেক প্রশ্ন ছিল, কিন্তু তিনি শুধু গোলই করেননি, মাঠে ও ড্রেসিংরুমে অসাধারণ নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি একজন আদর্শ, অনুসরণ করার মতো একজন ফুটবল আইকন। রোনালদোর মতো খেলোয়াড় খুব কমই জন্মায়।”
মার্তিনেজ জানান, রোনালদোর সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল বিশ্বকাপ জেতা। যদিও তা পূরণ হয়নি, তবু তিনি দলের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
রোনালদোকে বদলি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন পর্তুগাল কোচ।
তিনি বলেন,
“যখন একটি দলের গোল প্রয়োজন, তখন আপনি তার সেরা গোলদাতাকে মাঠ থেকে তুলে নিতে পারেন না। তাঁর শারীরিক সক্ষমতা, অভিজ্ঞতা এবং বক্সের ভেতরের উপস্থিতি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অতিরিক্ত সময়ে হয়তো Gonçalo Ramos-এর মতো সতেজ খেলোয়াড়কে ব্যবহার করা যেত, কিন্তু ম্যাচের সেই সময়ে আমাদের কাঠামো ধরে রাখা জরুরি ছিল।”
এই ম্যাচটিই ছিল রবার্তো মার্তিনেজেরও পর্তুগাল কোচ হিসেবে শেষ ম্যাচ।
তিনি বলেন,
“আমি হতাশ নই, বরং গর্বিত। আমরা টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট দলের বিপক্ষে সমানে সমান লড়েছি। আমাদের দলের ব্যক্তিত্ব, মনোযোগ এবং যাত্রাপথ নিয়ে আমি ভীষণ গর্বিত।”
অন্যদিকে, স্পেনের কোচ Luis de la Fuente বদলি হিসেবে নেমে জয়সূচক গোল করা Mikel Merino-র প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন,
“মেরিনো অসাধারণ একজন ফুটবলার, নিজের পজিশনে বিশ্বের সেরাদের একজন। তিনি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং দারুণ একটি গোল উপহার দিয়েছেন। প্রয়োজন হলে আমি নিজেই তাঁকে কাঁধে তুলে জাতীয় দলে নিয়ে আসতাম। পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই আমাদের বদলি খেলোয়াড়দের অবদান ছিল অসাধারণ।”