সোস্যাল মিডিয়ায় আশক্তি, ধীরে ধীরে মানুষের অভ্যন্তরীন শক্তিকে ধ্বংস করছে

সোশ্যাল মিডিয়ার আসক্তি সরাসরি মস্তিষ্ক ধ্বংস না করলেও এর কার্যকারিতায় গভীর প্রভাব ফেলছে—এমন তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা ও বিশেষজ্ঞ মতামতে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, ফেসবুক, টিকটক বা ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে লাইক, কমেন্ট ও নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ডোপামিন নিঃসরণ বাড়ে, যা ব্যবহারকারীদের দ্রুত আনন্দের প্রতি আসক্ত করে তোলে। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে মনোযোগ ধরে রাখা, পড়াশোনা বা সৃজনশীল কাজে মন দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে

PostImage

সোস্যাল মিডিয়ায় আশক্তি, ধীরে ধীরে মানুষের অভ্যন্তরীন শক্তিকে ধ্বংস করছে


সোশ্যাল মিডিয়ার আসক্তি সরাসরি মস্তিষ্ক ধ্বংস না করলেও এর কার্যকারিতায় গভীর প্রভাব ফেলছে—এমন তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা ও বিশেষজ্ঞ মতামতে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, ফেসবুক, টিকটক বা ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে লাইক, কমেন্ট ও নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ডোপামিন নিঃসরণ বাড়ে, যা ব্যবহারকারীদের দ্রুত আনন্দের প্রতি আসক্ত করে তোলে। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে মনোযোগ ধরে রাখা, পড়াশোনা বা সৃজনশীল কাজে মন দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের একাধিক শিক্ষকের মতে, অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে তরুণদের মধ্যে মনোযোগ ঘাটতি, উদ্বেগ ও মানসিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তারা বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল কনটেন্টে অভ্যস্ত হওয়ার কারণে মস্তিষ্ক গভীর চিন্তার ক্ষমতা হারাতে বসেছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদ্বেগজনক।

এদিকে, সম্প্রতি পরিচালিত একটি জরিপে দেখা গেছে, দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ তরুণ প্রতিদিন ৩ থেকে ৬ ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় ব্যয় করে। এর মধ্যে ৪৮ শতাংশ স্বীকার করেছে যে তারা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় অনলাইনে থাকে এবং এটি তাদের পড়াশোনা বা কাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এছাড়া ৫৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছে, রাতে ঘুমানোর আগে মোবাইল ব্যবহার তাদের ঘুমের মান কমিয়ে দিচ্ছে।

এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি মানসিক চিন্তাশীলতা এমন পর্যায়ে নিয়ে যায় যা অন্যদের সাথে নিজেকে তুলনা করা, কিছু মিস করে ফেলার ভয় (FOMO), এবং অবাস্তব জীবনধারার সঙ্গে পরিচিত হওয়ায় নিজের আত্মসম্মান কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি রাতে অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদন ব্যাহত করে, ফলে ঘুমের সমস্যা, ক্লান্তি এবং মানসিক কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটাতে পারে। তারা সচেতনতা বাড়ানো, স্ক্রিন টাইম সীমিত করা এবং নিয়মিত অফলাইন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে সুষম প্রযুক্তি ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।