যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস দখলে তীব্র লড়াই, মধ্যবর্তী নির্বাচনে দুই দলের নজর হাড্ডাহাড্ডি আসনে
নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস দখলে তীব্র লড়াই, মধ্যবর্তী নির্বাচনে দুই দলের নজর হাড্ডাহাড্ডি আসনে
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ততই জোরালো হচ্ছে। আগামী ৩ নভেম্বর দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিনিধি পরিষদের সব ৪৩৫টি আসনেই ভোট হবে।
বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের হাতে ২১৮টি আসন এবং ডেমোক্র্যাটদের হাতে ২১৪টি আসন রয়েছে, দুটি আসন শূন্য রয়েছে। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ২১৮ আসন ধরে রাখা বা অর্জন করা এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে বেশ কয়েকটি রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত আসনে প্রচার জোরদার করেছে। একই সময়ে রিপাবলিকানরা নিজেদের আসন ধরে রাখার পাশাপাশি ডেমোক্র্যাটদের দখলে থাকা কয়েকটি আসনেও জয় পাওয়ার চেষ্টা করছে।
নির্বাচনী লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে নিউ হ্যাম্পশায়ার, নিউইয়র্ক, ওহাইও, নেভাদা ও নিউ মেক্সিকোর কয়েকটি আসন রয়েছে। এসব জায়গায় প্রার্থীদের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক সংগঠন ও প্রচারগোষ্ঠীগুলোও বিপুল অর্থ ব্যয় করছে।
নিউইয়র্কের চতুর্থ কংগ্রেশনাল জেলায় ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি লরা গিলেনের প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী জিনিন ড্রিসকল। ২০২৪ সালের নির্বাচনে গিলেন এই আসনে জয় পেয়েছিলেন। এবারও আসনটি জাতীয় পর্যায়ের নজরে থাকা প্রতিযোগিতাপূর্ণ আসনগুলোর একটি।
ওহাইওর প্রথম কংগ্রেশনাল জেলাতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি গ্রেগ ল্যান্ডসম্যানের মুখোমুখি হয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী এরিক কনরয়। নতুন করে সীমানা নির্ধারণের পর আসনটির রাজনৈতিক চরিত্রে পরিবর্তন এসেছে, ফলে রিপাবলিকানরা এটিকে নিজেদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে দেখছে।
নির্বাচনী প্রচারে অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি, করনীতি, অভিবাসন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির প্রভাব বড় বিষয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন প্রতিযোগিতাপূর্ণ আসনে স্থানীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ও ভোটারদের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পাচ্ছে।
রিপাবলিকান প্রার্থীদের একটি বড় অংশ ট্রাম্পের নীতির সঙ্গে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে। তবে রয়টার্সের সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রতিযোগিতাপূর্ণ বেশ কিছু আসনে রিপাবলিকান প্রার্থীরা নির্দিষ্ট কিছু ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান থেকে নিজেদের কিছুটা দূরে রাখার কৌশলও নিয়েছেন।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়কে সামনে রেখে প্রচার চালাচ্ছে। দলটির নেতৃত্ব প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য প্রকাশ্যে জানিয়েছে এবং বেশ কিছু রিপাবলিকান আসনকে নিজেদের প্রচারের আওতায় এনেছে।
তবে নির্বাচনের ফলাফল আগে থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। বিভিন্ন জরিপ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণে প্রতিযোগিতার চিত্র উঠে এলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন ভোটাররা। বিশেষ করে অল্প ব্যবধানে জয়-পরাজয় হতে পারে এমন আসনগুলোর ফল প্রতিনিধি পরিষদের সামগ্রিক ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তিত হলে প্রেসিডেন্টের আইন প্রণয়ন কর্মসূচি, সরকারি ব্যয়, করনীতি, অভিবাসন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে পারে। একই সঙ্গে কংগ্রেসের বিভিন্ন কমিটির নেতৃত্ব ও আইন প্রণয়নের অগ্রাধিকারেও পরিবর্তন আসতে পারে।
এবারের নির্বাচনে শুধু প্রতিনিধি পরিষদ নয়, সিনেটের ৩৫টি আসনও ভোটের আওতায় রয়েছে। ফলে ৩ নভেম্বরের নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, দুই দলই প্রতিযোগিতাপূর্ণ আসনগুলোতে প্রচার, তহবিল সংগ্রহ এবং ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার কার্যক্রম বাড়াচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কোন দল প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে বা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে, তা নির্ধারিত হবে ৩ নভেম্বরের ভোট এবং পরবর্তী গণনার মাধ্যমে।