২০২৭ সালে বহু অঙ্গরাজ্যে ন্যূনতম মজুরি বাড়ছে, নিউইয়র্কে থামছে বৃদ্ধি

২০২৭ সালে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি বাড়লেও নিউইয়র্কে আইনগত শর্তের কারণে সাধারণ মজুরি অপরিবর্তিত থাকবে।

২০২৭ সালে বহু অঙ্গরাজ্যে ন্যূনতম মজুরি বাড়ছে, নিউইয়র্কে থামছে বৃদ্ধি

২০২৭ সালে বহু অঙ্গরাজ্যে ন্যূনতম মজুরি বাড়ছে, নিউইয়র্কে থামছে বৃদ্ধি


২০২৭ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে শ্রমিকদের ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি বাড়তে যাচ্ছে। তবে একই সময়ে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সাধারণ ন্যূনতম মজুরি বাড়ছে না। বিষয়টি নিয়ে শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, দাবিটির মূল অংশ সত্য হলেও বিষয়টি পুরোপুরি বোঝার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম ও আইনি শর্ত জানা প্রয়োজন। 

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের শ্রম দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সাধারণ ন্যূনতম মজুরি আগের বছরের মতোই থাকবে। নিউইয়র্ক শহর, লং আইল্যান্ড এবং ওয়েস্টচেস্টার এলাকায় ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি থাকবে ১৭ ডলার। অঙ্গরাজ্যের বাকি অংশে থাকবে ১৬ ডলার। অর্থাৎ সাধারণ শ্রমিকদের জন্য ২০২৭ সালের শুরুতে নতুন করে মজুরি বৃদ্ধি কার্যকর হচ্ছে না। 

তবে কেন নিউইয়র্কে মজুরি বাড়ছে না, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কয়েক বছর আগে প্রণীত ব্যবস্থার অধীনে অঙ্গরাজ্যের ন্যূনতম মজুরি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিবছর সমন্বয় করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এই হিসাবের ক্ষেত্রে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শহুরে শ্রমিক ও কেরানি কর্মীদের ভোক্তা মূল্যসূচকের পরিবর্তন বিবেচনা করা হয়। কিন্তু একই আইনে কিছু বিশেষ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে স্বয়ংক্রিয় মজুরি বৃদ্ধি বন্ধ রাখার সুযোগও রাখা হয়েছে। 

২০২৭ সালের ক্ষেত্রে সেই বিশেষ শর্ত কার্যকর হয়েছে। ফলে মূল্যস্ফীতির ভিত্তিতে যে সমন্বয় হওয়ার কথা ছিল, তা ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হচ্ছে না। নিউইয়র্ক শ্রম দপ্তরও স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ২০২৭ সালের জন্য স্বয়ংক্রিয় মজুরি বৃদ্ধির পথে আইনে নির্ধারিত একটি বাধা কার্যকর হয়েছে। এ কারণে সাধারণ ন্যূনতম মজুরি ১৭ ও ১৬ ডলারের স্তরেই থাকছে। 

এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিউইয়র্কে সব ধরনের শ্রমিকের মজুরি স্থির থাকছে এমন ধারণা সঠিক নয়। গৃহভিত্তিক পরিচর্যা কর্মীদের জন্য আলাদা মজুরি কাঠামো রয়েছে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নিউইয়র্ক শহর, লং আইল্যান্ড ও ওয়েস্টচেস্টার এলাকায় এসব কর্মীর ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ২০ ডলার হবে। অঙ্গরাজ্যের অন্যান্য এলাকায় তা হবে ১৯ ডলার। অর্থাৎ সাধারণ ন্যূনতম মজুরি না বাড়লেও পরিচর্যা খাতের কর্মীদের জন্য মজুরি বৃদ্ধি কার্যকর হচ্ছে। 

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ২০২৭ সালে ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই নির্ধারিত হয়েছে। যেমন কানেকটিকাটে ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি ২০২৬ সালের ১৬ দশমিক ৯৪ ডলার থেকে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি ১৭ দশমিক ৪৮ ডলারে উঠবে। অর্থাৎ সেখানে প্রায় ৫৪ সেন্ট বৃদ্ধি হচ্ছে। রাজ্যটির শ্রম দপ্তর জানিয়েছে, নির্ধারিত অর্থনৈতিক সূচকের ভিত্তিতে এই বার্ষিক সমন্বয় করা হয়েছে। 

মিশিগানেও ২০২৭ সালের শুরুতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। রাজ্যটির শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি ২০২৬ সালের ১৩ দশমিক ৭৩ ডলার থেকে বেড়ে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি ১৫ ডলার হবে। এরপর নির্ধারিত সূত্র অনুযায়ী প্রতিবছর মজুরি সমন্বয়ের ব্যবস্থা থাকবে। 

ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যেও ২০২৭ সালে ন্যূনতম মজুরি বাড়বে। ২০২৬ সালে ঘণ্টাপ্রতি ১৭ দশমিক ১৩ ডলার থাকা মজুরি ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ দশমিক ৭৩ ডলারে উন্নীত হবে। অর্থাৎ ঘণ্টায় ৬০ সেন্ট বৃদ্ধি হবে। অঙ্গরাজ্যটির শ্রম ও শিল্প দপ্তর জানিয়েছে, নির্দিষ্ট মূল্যসূচকের পরিবর্তনের ভিত্তিতে এই হার নির্ধারণ করা হয়েছে। 

ফেডারেল পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যূনতম মজুরি এখনো ঘণ্টায় ৭ দশমিক ২৫ ডলার। তবে যেসব অঙ্গরাজ্য বা স্থানীয় সরকার এর চেয়ে বেশি ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করেছে, সেখানে শ্রমিককে প্রযোজ্য উচ্চতর হার দিতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তরের হিসাবে, বর্তমানে ৩০টি অঙ্গরাজ্য এবং কয়েকটি অঞ্চল ফেডারেল হারের চেয়ে বেশি ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করেছে। 

এই ব্যবধানের কারণে একই দেশে বসবাস করলেও একজন শ্রমিকের ন্যূনতম আয় অঙ্গরাজ্যভেদে উল্লেখযোগ্যভাবে আলাদা হতে পারে। কোথাও আইন মূল্যস্ফীতির সঙ্গে মজুরি সমন্বয় করে, কোথাও নির্দিষ্ট বছরের জন্য আগেই মজুরি নির্ধারণ করা হয়। আবার কিছু অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় সরকার আরও বেশি মজুরি নির্ধারণ করতে পারে। ফলে ২০২৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ন্যূনতম মজুরির একটি একক হার থাকবে না। 

নিউইয়র্কের ক্ষেত্রে অবশ্য মজুরি স্থবির থাকার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। গভর্নর ক্যাথি হোকুল স্বয়ংক্রিয় বৃদ্ধি বন্ধ করে দেওয়া আইনি শর্ত পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তার পরিকল্পনা কার্যকর হলে শ্রমিকেরা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরি বৃদ্ধির সুযোগ ফিরে পেতে পারেন। তবে এ ধরনের পরিবর্তনের জন্য অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় অনুমোদন প্রয়োজন। 

ফলে “২০২৭ সালে নিউইয়র্কে ন্যূনতম মজুরি বাড়ছে না” এই দাবিটি সাধারণ ন্যূনতম মজুরির ক্ষেত্রে সত্য। তবে এটিকে নিউইয়র্কের সব শ্রমিকের মজুরি অপরিবর্তিত থাকবে এভাবে বলা ভুল হবে। বিশেষ করে গৃহপরিচর্যা কর্মীদের মজুরি বাড়ছে। একই সঙ্গে অন্য অনেক অঙ্গরাজ্যে মূল্যস্ফীতি বা আইনগত সূত্র অনুযায়ী ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি কার্যকর হচ্ছে। 

সার্বিকভাবে যাচাই করে বলা যায়, ২০২৭ সালের শ্রমবাজারে ন্যূনতম মজুরির চিত্র হবে অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন। নিউইয়র্কে সাধারণ কর্মীদের জন্য ১৭ ও ১৬ ডলারের হার বহাল থাকবে, যখন কানেকটিকাট, মিশিগান ও ওয়াশিংটনের মতো অঙ্গরাজ্যে কর্মীদের ঘণ্টাপ্রতি আয় বাড়বে। তবে নিউইয়র্কের গভর্নরের প্রস্তাব এবং আইনসভায় সম্ভাব্য পরিবর্তনের কারণে বছরের পরবর্তী সময়ে এই পরিস্থিতি বদলাতেও পারে। তাই এখন পর্যন্ত সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে সবচেয়ে নির্ভুল অবস্থান হলো ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি নিউইয়র্কে সাধারণ ন্যূনতম মজুরি বাড়ছে না, তবে নির্দিষ্ট খাতের শ্রমিকদের মজুরি বাড়ছে। 


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর