সবুজের ছোঁয়া মানে শুধু সৌন্দর্য নয়—এটা মানসিক সুস্থতারও চাবিকাঠি।

শহুরে জীবন আর প্রযুক্তির চাপে ক্লান্ত মনকে সতেজ করতে প্রকৃতিই হতে পারে সর্বোত্তম ওষুধ—বিজ্ঞান এখন সেটিই প্রমাণ করছে।

PostImage

সবুজের ছোঁয়া মানে শুধু সৌন্দর্য নয়—এটা মানসিক সুস্থতারও চাবিকাঠি।


আজ পৃথিবীর অর্ধেকেরও বেশি মানুষ শহরে বাস করে, আর জীবনের প্রায় ৯০ শতাংশ সময় কাটে ঘরের ভেতর। এই বাস্তবতায় প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ আগের চেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। মার্ক বারম্যান, ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক ও এনভায়রনমেন্টাল নিউরোসায়েন্স ল্যাবের পরিচালক, ব্যাখ্যা করেছেন কিভাবে প্রকৃতি আমাদের মন, মনোযোগ এবং মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে।

বারম্যান বলেন, “পরিবেশগত স্নায়ুবিজ্ঞান মূলত বোঝার চেষ্টা করে—আমাদের চারপাশের গাছ, আলো, শব্দ বা বাতাস কিভাবে মস্তিষ্ক ও আচরণকে প্রভাবিত করে।”

তার গবেষণার মূল ধারণা Attention Restoration Theory (ART) অনুযায়ী, মানুষের মনোযোগ দুইভাবে কাজ করে—একটি সরাসরি মনোযোগ, যা ক্লান্ত হয়, আরেকটি স্বতঃস্ফূর্ত মনোযোগ, যা প্রকৃতির দৃশ্য যেমন বাতাসে দুলতে থাকা গাছের ডাল বা নদীর ঢেউয়ের প্রতি স্বাভাবিকভাবে আকৃষ্ট হয়। প্রকৃতির মধ্যে থাকলে আমাদের ক্লান্ত মনোযোগ বিশ্রাম নেয় এবং স্বতঃস্ফূর্ত মনোযোগ ধীরে ধীরে মনকে প্রশান্ত করে—এই অবস্থাকে বলা হয় “soft fascination”

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ৫০ মিনিট প্রকৃতিতে হাঁটেন, তারা শহুরে এলাকায় হাঁটা মানুষের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি মনোযোগী ও স্মৃতিশক্তিতে উন্নতি দেখান। এমনকি প্রকৃতির ছবি দেখা বা পাখির ডাক শোনার মতো ছোট অভিজ্ঞতাও মস্তিষ্কের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

চমকপ্রদভাবে, প্রকৃতিকে উপভোগ না করলেও উপকার মেলে। ঠান্ডা শীতে যাঁরা হাঁটতে পছন্দ করেননি, তাঁরাও একই মানসিক সুফল পেয়েছেন।

বারম্যান বলেন, “যাঁরা সবুজের সংস্পর্শে আসতে পারেন না, তাঁদের জন্যও ছোট উদ্যোগ যেমন ঘরে গাছ রাখা, প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করা বা প্রকৃতির ছবি দেখা সহায়ক।”

স্থাপত্যে এখন বায়োফিলিক ডিজাইন জনপ্রিয় হচ্ছে—যেখানে প্রাকৃতিক আকৃতি ও নকশা নকল করে মানসিকভাবে আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করা হয়।

বারম্যানের মতে, “বাস্তব প্রকৃতি সবচেয়ে কার্যকর, তবে সামান্য সংস্পর্শও আমাদের মস্তিষ্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে।”

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর