টিউশনি থেকে সঞ্চয়, সেই অর্থেই স্বপ্নের পথে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে যাচ্ছেন
টিউশনি করে জমানো টাকায় বিদেশযাত্রা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী উচ্ছাস শিকদার যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করবেন, অন্ত্রের অণুজীব নিয়ে গবেষণায় নতুন স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন
টিউশনি থেকে সঞ্চয়, সেই অর্থেই স্বপ্নের পথে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে যাচ্ছেন
সীমিত সামর্থ্য কখনোই বড় স্বপ্ন দেখার পথে বাধা হতে পারে না—নিজের পথচলায় সেটিই যেন প্রমাণ করেছেন উচ্ছাস শিকদার। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় টিউশনি করে অর্থ উপার্জন ও সঞ্চয় করেছেন। সেই সঞ্চয়ের ওপর ভর করেই এগিয়েছেন বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতিতে। এবার যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী।
উচ্ছাস শিকদার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। শিক্ষাজীবন থেকেই জীববিজ্ঞান ও গবেষণার বিষয়ে আগ্রহ ছিল তার। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের প্রয়োজন মেটাতে টিউশনি করতেন তিনি। উপার্জনের অর্থ থেকে নিয়মিত কিছু টাকা জমিয়ে রাখতেন ভবিষ্যতের লক্ষ্য পূরণের জন্য।
সেই লক্ষ্য এবার বাস্তব রূপ নিতে যাচ্ছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন উচ্ছাস। সেখানে পিএইচডি পর্যায়ে মানুষের অন্ত্রে বসবাসকারী অণুজীব নিয়ে গবেষণা করবেন তিনি।
মানবদেহের অন্ত্রে থাকা অণুজীব নিয়ে বিজ্ঞানীদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। কারণ এসব অণুজীব মানুষের হজমপ্রক্রিয়া, বিপাক, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে নানা উপায়ে সম্পর্কিত। ফলে অন্ত্রের অণুজীব নিয়ে গবেষণা ভবিষ্যতের চিকিৎসাবিজ্ঞান ও জীবপ্রযুক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাক্ষেত্রেই নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে চান উচ্ছাস। বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিষয়ে পড়াশোনার সময় গবেষণার প্রতি যে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল, উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে সেটিকে আরও গভীর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।
তবে এই পর্যায়ে পৌঁছানোর পথটি সহজ ছিল না। পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করে অর্থ উপার্জন করতে হয়েছে তাকে। নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ধীরে ধীরে সঞ্চয় করেছেন। বিদেশে পড়াশোনার প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও সেই সঞ্চয়ের অর্থ গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করেছে।
উচ্ছাসের গল্পের বিশেষ দিক হলো—উচ্চশিক্ষার স্বপ্নকে তিনি শুধু পরিবারের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভর করে রাখেননি। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করেছেন, অর্থ সঞ্চয় করেছেন এবং ধাপে ধাপে লক্ষ্যের দিকে এগিয়েছেন।
একজন শিক্ষার্থীর জন্য বিদেশে পিএইচডির সুযোগ পাওয়া নিঃসন্দেহে বড় অর্জন। কিন্তু উচ্ছাসের ক্ষেত্রে এই অর্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আত্মনির্ভরতার একটি আলাদা গল্প। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় টিউশনি করা থেকে শুরু করে গবেষণার প্রস্তুতি—প্রতিটি ধাপেই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে এগিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে গবেষণার নতুন পরিবেশে নিজেকে আরও দক্ষ করে তোলার সুযোগ পাবেন উচ্ছাস। মানুষের অন্ত্রের অণুজীব নিয়ে তার গবেষণা ভবিষ্যতে জীববিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন জ্ঞান তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
উচ্ছাসের এই যাত্রা দেশের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। বড় কোনো লক্ষ্য অর্জনের জন্য সবসময় বড় সুযোগের অপেক্ষায় থাকতে হয় না। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী শুরু করে ধৈর্য, পরিশ্রম ও পরিকল্পনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছানো সম্ভব।
টিউশনি করে সঞ্চয় করা অর্থ থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডির পথে যাত্রা—উচ্ছাস শিকদারের গল্প তাই শুধু একজন শিক্ষার্থীর বিদেশযাত্রা নয়; এটি স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করার জন্য নিজের ওপর আস্থা রাখার একটি অনুপ্রেরণামূলক গল্প।