মার্কিন হামলার জবাবে উপসাগরে ইরানের পাল্টা আঘাত, হরমুজ বন্ধের ঘোষণা
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ সামরিক হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে
মার্কিন হামলার জবাবে উপসাগরে ইরানের পাল্টা আঘাত, হরমুজ বন্ধের ঘোষণা
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ সামরিক হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রোববার সকালে ইরানের হামলায় জর্ডান, বাহরাইন, কাতার, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। কাতারের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলা প্রতিহত করলেও ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে এক শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী একটি সাইপ্রাস-নিবন্ধিত কনটেইনার জাহাজে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) গুলি চালানোর পর মার্কিন বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফায় হামলা চালায়। পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, IRGC আরও একটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যেটিকে তারা "নিয়ম লঙ্ঘনকারী" বলে দাবি করেছে।
এর কিছুক্ষণ পর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) ঘোষণা করে, তারা ইরানের অন্তত ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি, নৌ-সামরিক স্থাপনা, গোলাবারুদের গুদাম, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং নজরদারি ব্যবস্থা।
জবাবে IRGC দাবি করেছে, তারা জর্ডানে একটি কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার ও ড্রোন হ্যাঙ্গার, কুয়েতে একটি মার্কিন রাডার স্থাপনা, ওমানে মার্কিন নৌবাহিনীর সহায়ক ও জ্বালানি সরবরাহ প্ল্যাটফর্ম এবং কাতারে একটি যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র ও কমান্ড স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও শান্তি আলোচনার প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, "একতরফা চুক্তির যুগ শেষ। আমরা আগেই বলেছিলাম—প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুন, নইলে মূল্য দিতে হবে। বাস্তবতা এখন দরজায় কড়া নাড়ছে।"
এদিকে হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণার পর যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO) সতর্ক করে বলেছে, প্রণালীতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সংস্থাটি জানিয়েছে, ওমানের জলসীমা দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি বিকল্প নৌপথ এখনও খোলা রয়েছে, তবে সেখানে সমুদ্রে মাইন থাকার সম্ভাবনা থাকায় জাহাজগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংঘাতের প্রভাব সমুদ্রপথেও পড়েছে। ওমান উপকূলে হামলার শিকার হওয়া GFS Galaxy নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ২৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, তবে একজন নাবিক এখনও নিখোঁজ। ভারত জানিয়েছে, জাহাজে থাকা ১১ ভারতীয় নাবিকের মধ্যে ১০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় ওমানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস দুকম ও মুসান্দাম অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। একই সময়ে ওমান সরকার দেশটিতে ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ড্রোন হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
অন্যদিকে জর্ডান ইরানের হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক উসকানি বলে আখ্যা দিয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
নতুন এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহনের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।