জিমি লাইকে মুক্তির অনুরোধে শি জিনপিংয়ের ইতিবাচক সাড়া পাননি ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump জানিয়েছেন, হংকংয়ের কারাবন্দী গণতন্ত্রপন্থী মিডিয়া ব্যক্তিত্ব Jimmy Lai-কে মুক্তি দেওয়ার অনুরোধ জানালেও চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping এ বিষয়ে ইতিবাচক কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি। ট্রাম্প বলেন, আলোচনার পর তিনি আশাবাদী হতে পারেননি।

PostImage

জিমি লাইকে মুক্তির অনুরোধে শি জিনপিংয়ের ইতিবাচক সাড়া পাননি ট্রাম্প


মার্কিন সংবাদমাধ্যম Fox News-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে তিনি হংকংয়ের কারাবন্দী ব্যবসায়ী ও গণতন্ত্রপন্থী মিডিয়া উদ্যোক্তা জিমি লাইয়ের মুক্তির বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন।

৭৮ বছর বয়সী জিমি লাই বর্তমানে হংকংয়ে রাষ্ট্রদ্রোহ ও বিদেশি শক্তির সঙ্গে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তিনি হংকংয়ের প্রভাবশালী গণতন্ত্রপন্থী সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা দীর্ঘদিন ধরে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সমালোচনা করে আসছিল।

ট্রাম্প সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি জিমি লাইয়ের বিষয়টি তুলেছিলাম। আমি বলব, প্রতিক্রিয়াটি ইতিবাচক ছিল না। শি বলেছেন, এটি তার জন্য এক ধরনের দুঃস্বপ্নের মতো পরিস্থিতি।”

তিনি আরও জানান, জিমি লাইয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতির বিষয়েও তিনি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। ট্রাম্প বলেন, “আমি বলেছি, তাকে মুক্তি দিলে আমি কৃতজ্ঞ থাকব। তিনি এখন বৃদ্ধ এবং সম্ভবত খুব একটা সুস্থ নন।”

তবে আলোচনার পর ট্রাম্প স্পষ্টভাবে স্বীকার করেন যে, তিনি এ বিষয়ে খুব বেশি আশাবাদী নন। “সত্যি বলতে, আমি খুব আশাবাদী অনুভব করিনি,” বলেন তিনি।

অন্যদিকে, জিমি লাইয়ের মেয়ে Claire Lai ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, তার বাবাকে মুক্ত করার সবচেয়ে বড় আশা এখন ট্রাম্প প্রশাসন। তিনি ট্রাম্পকে “liberator-in-chief” বা “মুক্তিদাতা প্রধান” হিসেবেও উল্লেখ করেন।

জিমি লাই ২০২০ সালে গ্রেপ্তার হন। চীনা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তার প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যম বিদেশি শক্তির সঙ্গে মিলে সরকারবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করে, এটি মূলত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমনের অংশ।

ট্রাম্প সাক্ষাৎকারে আরও দাবি করেন, তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে “শত শত” বন্দিকে মুক্ত করতে সহায়তা করেছেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি তুরস্কে আটক মার্কিন পাদ্রী Andrew Brunson-এর মুক্তির বিষয়টি তুলে ধরেন।

একই সঙ্গে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট Joe Biden-এর বন্দি মুক্তির কৌশলেরও সমালোচনা করেন। ট্রাম্পের দাবি, বাইডেন প্রশাসন বন্দি মুক্তির জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে, যেখানে তিনি অর্থ না দিয়েই বন্দিদের মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর