রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার একপাক্ষিক অবস্থান নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক
সংস্কারপন্থী নেতা আলী সুফির অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জনগণের বৃহত্তর অংশের কণ্ঠস্বর নয়; বরং কেবল একটি নির্দিষ্ট কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর মতামতই তুলে ধরা হচ্ছে।
তিনি বলেন, যুদ্ধ ও সামরিক হুমকির সময়ে জাতীয় ঐক্য গড়তে হলে সব রাজনৈতিক মত, সামাজিক শ্রেণি এবং ভিন্নমতকে একসঙ্গে জায়গা দিতে হবে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এখনও একপাক্ষিক নীতিতে অটল রয়েছে।
সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরানের জনগণ ও এমনকি বিদেশে অবস্থানরত বিরোধীদের অনেকেও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একত্রিত হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
‘জাতীয় ঐক্যের সময়েও একচেটিয়া কণ্ঠস্বরকে প্রাধান্য দিচ্ছে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন’ — সংস্কারপন্থী নেতা আলী সুফি
ইরানে সামরিক উত্তেজনা ও জাতীয় নিরাপত্তা সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন সংস্কারপন্থী রাজনৈতিক নেতা Ali Sufi। তার অভিযোগ, দেশের বর্তমান সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে যেখানে জাতীয় ঐক্য ও সব মতের অংশগ্রহণ সবচেয়ে জরুরি, সেখানে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা Islamic Republic of Iran Broadcasting এখনও সংকীর্ণ ও একপাক্ষিক নীতি অনুসরণ করছে।
আলী সুফি বলেন, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও রেডিও জনগণের বৃহত্তর অংশের প্রতিনিধিত্ব করছে না। বরং সম্প্রচারের মূল প্ল্যাটফর্মগুলো সীমিত কয়েকজন কট্টরপন্থী বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের দখলে চলে গেছে। এর ফলে জাতীয় সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় বহুমাত্রিক মতামত ও সামাজিক ঐক্যের প্রতিফলন ঘটছে না।
জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন, কিন্তু সম্প্রচারে নেই বহুমতের প্রতিফলন
ইরানের সংবাদমাধ্যম Khabar Online-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে আলী সুফি বলেন, সামরিক হুমকি ও যুদ্ধাবস্থার মতো পরিস্থিতিতে যে কোনো দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জনগণের ঐক্য। তবে এই ঐক্য মানে ভিন্নমতকে বাদ দেওয়া নয়; বরং রাজনৈতিক, সামাজিক ও আদর্শগত সব ধারার মানুষকে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় একত্রিত করা।
তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের দায়িত্ব ছিল দেশের সব শ্রেণি ও মতের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক গ্রহণযোগ্য ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে সম্প্রচার থেকে দূরে রাখা হয়েছে, আর কেবল নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মুখপাত্রদের নিয়মিত প্রচার করা হচ্ছে।
‘একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সম্প্রচারমাধ্যম’
আলী সুফি দাবি করেন, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থাটি এখনও একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক চিন্তাধারার প্রভাবাধীন। তিনি বিশেষভাবে Vahid Jalili-র নাম উল্লেখ করে বলেন, তার নেতৃত্বে এবং কট্টরপন্থী রাজনৈতিক প্রবণতার প্রভাবে রাষ্ট্রীয় মিডিয়া আগের মতোই সীমিত দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করছে।
সুফির মতে, যদিও রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে জনগণের গুরুত্ব ও জাতীয় প্রতিরক্ষায় তাদের ভূমিকা নিয়ে নতুন উপলব্ধি তৈরি হয়েছে, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি।
সামরিক হামলার পর জনগণের ঐক্য শত্রুর হিসাব বদলে দিয়েছে
আলী সুফি বলেন, বিদেশি প্রতিপক্ষের ধারণা ছিল যে সামরিক আক্রমণের মুখে ইরানের জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসবে। কিন্তু বাস্তবতা হয়েছে সম্পূর্ণ উল্টো। সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক মত ও সামাজিক পটভূমির মানুষ জাতীয় নিরাপত্তা ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের বাইরে অবস্থানরত বিরোধী গোষ্ঠীর অনেক সদস্যও বিদেশি সামরিক হামলা ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে হুমকিকে সমর্থন করেননি।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জনগণের প্রকৃত কণ্ঠস্বর হওয়ার আহ্বান
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক শক্তির জন্য সংকটকালে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম যদি বহুমতের প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সামাজিক আস্থা ও রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আলী সুফির বক্তব্য ইঙ্গিত করছে যে, বর্তমান বাস্তবতায় রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কেবল সরকারি অবস্থান তুলে ধরা নয়, বরং সমগ্র জাতির বহুমাত্রিক কণ্ঠস্বরকে সামনে আনা। এতে জাতীয় ঐক্য আরও শক্তিশালী হবে এবং সংকট মোকাবিলায় রাষ্ট্রের সক্ষমতা বাড়বে।