ইরানে মার্কিন হামলায় ভুলবশত স্কুলে আঘাত, নিহত ১৮০-এর বেশি শিশু ও শিক্ষক: তদন্তে উঠে আসছে নতুন তথ্য

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের একটি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে চালানো মার্কিন সামরিক হামলা ভুলবশত একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আঘাত হানতে পারে। ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাব শহরে সংঘটিত এই হামলায় অন্তত ১৬৮ জন শিশু ও ১৪ জন শিক্ষক নিহত হয়েছে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। তদন্তের প্রাথমিক ফলাফলে বলা হচ্ছে, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে ব্যবহৃত পুরোনো গোয়েন্দা তথ্যই এই ভয়াবহ ভুলের কারণ হতে পারে, যা নিয়ে শুরু হয়েছে বিস্তারিত তদন্ত।

PostImage

ইরানে মার্কিন হামলায় ভুলবশত স্কুলে আঘাত, নিহত ১৮০-এর বেশি শিশু ও শিক্ষক: তদন্তে উঠে আসছে নতুন তথ্য


ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক হামলায় ভুলবশত একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আঘাত হানার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। এতে অন্তত ১৬৮ জন শিশু ও ১৪ জন শিক্ষক নিহত হয়েছেন বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখে ইরানের হরমুজগান প্রদেশের মিনাব শহরে এই হামলা ঘটে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর একটি নৌঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছিল।

তদন্তের প্রাথমিক তথ্য সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে ব্যবহৃত গোয়েন্দা তথ্য ছিল পুরোনো। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই শাজারেহ তায়্যিবা নামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি IRGC স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (DIA) এই লক্ষ্যবস্তুর স্থানাঙ্ক তৈরি করেছিল বলে জানা গেছে। পরে সেই তথ্য ব্যবহার করে হামলা চালায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, ভুল বা পুরোনো তথ্য ব্যবহারের কারণেই ক্ষেপণাস্ত্রটি সামরিক ঘাঁটির পরিবর্তে স্কুল এলাকায় আঘাত হানতে পারে।

ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন যে ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং বিস্তারিত মন্তব্যের জন্য পেন্টাগনের দিকে নির্দেশ দিয়েছেন। একইভাবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডও চলমান তদন্তের কারণে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

স্যাটেলাইট ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

তদন্তকারীরা স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে একসময় স্কুল ও IRGC ঘাঁটি একই কমপ্লেক্সের অংশ ছিল।

২০১৩ সালের স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায় স্কুল ও সামরিক স্থাপনাটি একই এলাকায় অবস্থিত।

তবে ২০১৬ সালের ছবিতে দেখা যায় স্কুল এবং সামরিক ঘাঁটির মাঝে একটি বেড়া নির্মাণ করা হয়েছে এবং স্কুলের জন্য আলাদা প্রবেশপথ তৈরি করা হয়েছে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরের স্যাটেলাইট ছবিতে স্কুলের আঙিনায় বহু মানুষকে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে দেখা যায়।

ক্ষেপণাস্ত্রের ভিডিও ও ধ্বংসাবশেষ

ঘটনার সময় কাছাকাছি একটি নির্মাণস্থল থেকে ধারণ করা ভিডিওতে হামলার মুহূর্ত ধরা পড়ে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এ ভিডিও প্রকাশ করে।

ভিডিওতে দেখা যায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র IRGC ঘাঁটির ভেতরে আঘাত হানছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটি সম্ভবত মার্কিন তৈরি টমাহক ল্যান্ড অ্যাটাক মিসাইল।

এর কিছুক্ষণ পর ক্যামেরা ঘুরে স্কুলের দিকেও বড় ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়।

পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন IRIB হামলার ধ্বংসাবশেষের কিছু ছবি প্রকাশ করে, যেগুলো টমাহক ক্রুজ মিসাইলের অংশ হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

তবে সেগুলো ঠিক কোন স্থানে আঘাত করা ক্ষেপণাস্ত্রের অংশ তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এ বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে তিনি অবগত নন।

তিনি বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।”

এর আগে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে হামলার জন্য ইরান নিজেও দায়ী হতে পারে। তবে পরে তিনি স্বীকার করেন যে এ বিষয়ে তার কাছে পর্যাপ্ত তথ্য নেই।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, তদন্ত এখনো চলমান এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।

পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বলেছেন, ঘটনাটি “সম্পূর্ণভাবে তদন্ত করা হবে।”

তিনি বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী সবসময় বেসামরিক মানুষের ক্ষতি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে।

তবে একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন যে আঞ্চলিক সংঘাতে ইরান প্রায়ই নির্বিচারে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

তদন্ত এখনও চলছে এবং চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ হতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর