ধ্বংসস্তূপের মাঝেই ফুটবলের উচ্ছ্বাস, খান ইউনিসে ম্যাচ দেখতে জড়ো শত শত মানুষ
তাঁবু ও ধ্বংসস্তূপের মাঝেই অস্থায়ী মাঠে ফুটবল ম্যাচ খেললেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি খেলোয়াড়রা, খেলা দেখতে জড়ো হন শত শত মানুষ।
ধ্বংসস্তূপের মাঝেই ফুটবলের উচ্ছ্বাস, খান ইউনিসে ম্যাচ দেখতে জড়ো শত শত মানুষ
গাজার খান ইউনিসে যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ ও বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবুর মাঝেই অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। ২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে গাজা সিটি ও খান ইউনিসের বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি খেলোয়াড়রা অংশ নেন। অস্থায়ীভাবে তৈরি মাঠটির চারপাশে ছিল বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবু এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ধ্বংসাবশেষ। ম্যাচটি দেখতে মাঠের পাশে এবং আশপাশের ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ছাদে জড়ো হন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ম্যাচটি আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত আয়োজক ইউনিস আবু সাহলুল জানান, যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুতি, মৃত্যু ও ধ্বংসের মধ্যে থাকা মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তি ও স্বাভাবিকতার অনুভূতি ফিরিয়ে আনাই ছিল এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। দীর্ঘ সময় ধরে সংঘাতের কারণে গাজার অনেক খেলার মাঠ ও ক্রীড়া স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও স্থানীয় পর্যায়ে ফুটবল কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ম্যাচটি দেখতে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। কেউ মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে খেলা দেখেছেন, আবার কেউ ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ছাদ ও জানালা থেকে ম্যাচ উপভোগ করেছেন। শিশুদেরও ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের একটি অংশের ভেতর থেকে খেলা দেখতে দেখা যায়। গোল হওয়ার মুহূর্তে দর্শকদের মধ্যে উচ্ছ্বাসও দেখা যায়।
খেলোয়াড়দের জন্যও এই ম্যাচ ছিল যুদ্ধের বাস্তবতা থেকে কিছুক্ষণের জন্য মন সরিয়ে রাখার একটি সুযোগ। ম্যাচে অংশ নেওয়া ফুটবলার আহমেদ আল-লুলহি বলেন, দর্শকদের উপস্থিতি খেলোয়াড়দের মধ্যে আশার অনুভূতি তৈরি করেছে। তার মতে, ফুটবল খেলোয়াড়দের আবেগ প্রকাশের একটি পথ তৈরি করে এবং দর্শকদেরও কিছুটা স্বস্তি দেয়।
রয়টার্স কানেক্টে প্রকাশিত ছবির বর্ণনা অনুযায়ী, খান ইউনিসের পশ্চিম অংশে বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবুর পাশে তৈরি করা অস্থায়ী মাঠে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে গাজা সিটির একটি দল ও খান ইউনিসে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের একটি দল মুখোমুখি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা যুদ্ধের মানসিক চাপ থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে ম্যাচটি দেখতে জড়ো হন।
এদিকে গাজায় যুদ্ধের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনো তাঁবু ও ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে বসবাস করছেন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে খান ইউনিসসহ গাজার বিভিন্ন এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবির ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র উঠে এসেছে। এর মধ্যেও স্থানীয় পর্যায়ে ফুটবলসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ক্রীড়া কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বাসিন্দারা।
এই ফুটবল ম্যাচটি তাই শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়, বরং যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির মধ্যে থাকা মানুষের জন্য কয়েক ঘণ্টার স্বাভাবিক পরিবেশ তৈরির একটি প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা গেছে। তবে গাজার বর্তমান পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এখনো রয়েছে এবং অঞ্চলটিতে সংঘাত-সংক্রান্ত ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে।