সাধারণ একটি ভিটামিন অপ্রত্যাশিতভাবে মস্তিষ্কের বার্ধক্যে প্রভাব ফেলতে পারে: গবেষণা

জাপানের নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তে ভিটামিন সি-এর মাত্রা বেশি থাকলে বয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কের গঠন তুলনামূলকভাবে ভালো থাকতে পারে এবং স্মৃতি ও জ্ঞানীয় কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ স্নায়বিক নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হতে পারে

PostImage

সাধারণ একটি ভিটামিন অপ্রত্যাশিতভাবে মস্তিষ্কের বার্ধক্যে প্রভাব ফেলতে পারে: গবেষণা


জাপানের নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তে ভিটামিন সি-এর মাত্রা বেশি থাকলে বয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কের গঠন তুলনামূলকভাবে ভালো থাকতে পারে এবং স্মৃতি ও জ্ঞানীয় কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ স্নায়বিক নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হতে পারে।

গবেষণাটি জাপানের হিরোসাকি শহরের ২,০৪৪ জন বয়স্ক ব্যক্তির ওপর পরিচালিত হয়, যাদের গড় বয়স ছিল ৬৯ বছর এবং অংশগ্রহণকারীদের ৬১ শতাংশ নারী। গবেষকরা রক্তের নমুনা থেকে ভিটামিন সি-এর মাত্রা পরিমাপ করেন এবং এমআরআই স্ক্যানের মাধ্যমে মস্তিষ্কের ধূসর (গ্রে ম্যাটার) ও সাদা (হোয়াইট ম্যাটার) অংশের আয়তন বিশ্লেষণ করেন।

ফলাফলে দেখা যায়, যাদের রক্তে ভিটামিন সি-এর মাত্রা কম ছিল, তাদের মস্তিষ্কের টিস্যুর পরিমাণও তুলনামূলকভাবে কম এবং গুরুত্বপূর্ণ স্নায়বিক সংযোগ দুর্বল ছিল। বয়স, ধূমপান, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য জীবনধারাগত বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার পরও এই সম্পর্ক দেখা গেছে।

গবেষণার প্রধান গবেষক ড. তোমোহিরো শিনতাকু বলেন, বেশি ভিটামিন সি থাকা ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের গঠন ভালোভাবে সংরক্ষিত ছিল এবং স্মৃতি ও জ্ঞানীয় ক্ষমতার সঙ্গে জড়িত ডিফল্ট মোড নেটওয়ার্ক (DMN) আরও শক্তিশালী দেখা গেছে। এই নেটওয়ার্কটি প্রায়ই আলঝেইমারস রোগ ও বিষণ্নতার মতো অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তবে গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে এটি একটি পর্যবেক্ষণভিত্তিক (observational) গবেষণা। অর্থাৎ, এটি ভিটামিন সি সরাসরি মস্তিষ্কের বার্ধক্য রোধ করে—এমন কারণ-ও-ফল সম্পর্ক প্রমাণ করে না; কেবল দুটির মধ্যে একটি সম্পর্ক নির্দেশ করে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, মানুষ নিজে থেকে ভিটামিন সি তৈরি করতে পারে না। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় লেবুজাতীয় ফল, বেরি, টমেটো এবং সবুজ শাকসবজি রাখার মাধ্যমে পর্যাপ্ত ভিটামিন সি গ্রহণ করা মস্তিষ্কের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন সি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের একটি সম্ভাব্য উপাদান হলেও এটি একমাত্র নির্ধারক নয়। উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা এবং সামগ্রিক জীবনযাপনও মস্তিষ্কের সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।