যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: প্রকাশিত নথি হবে সংক্ষিপ্ত, আসল সিদ্ধান্ত লুকিয়ে রয়েছে পর্দার আড়ালে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য ঐতিহাসিক সমঝোতার পথ খুলে গেছে। তবে প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা সমঝোতা স্মারক (MOU) নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এটি মূলত একটি রাজনৈতিক কাঠামো, যেখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতিগুলোর অনেকটাই প্রকাশ্যে উল্লেখ করা হয়নি। সামনে ৬০ দিনের কঠিন ও কারিগরি আলোচনা নির্ধারণ করবে এই চুক্তি বাস্তবে কতটা সফল হবে।

PostImage

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: প্রকাশিত নথি হবে সংক্ষিপ্ত, আসল সিদ্ধান্ত লুকিয়ে রয়েছে পর্দার আড়ালে


ওয়াশিংটন/তেহরান:

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি সম্পাদিত সমঝোতা স্মারক (MOU) প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এই নথিকে চূড়ান্ত চুক্তি হিসেবে দেখা উচিত হবে না, কারণ এটি মূলত ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য একটি রাজনৈতিক কাঠামো মাত্র।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মতে, পুরো নথিটি মাত্র দেড় পৃষ্ঠার। কর্মকর্তারা জানান, এটি ইচ্ছাকৃতভাবেই সংক্ষিপ্ত ও অস্পষ্ট রাখা হয়েছে, যাতে দুই দেশই নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতায় এটি গ্রহণযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে।

গোপন সমঝোতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, নথিতে যা লেখা আছে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো পর্দার আড়ালে হওয়া সমঝোতাগুলো।

বিশেষ করে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুতের বিষয়ে নথিতে বিস্তারিত কিছু নেই। সেখানে শুধু বলা হয়েছে, ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।

তবে মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করছেন, ব্যক্তিগত আলোচনায় ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিষ্ক্রিয় বা ধ্বংস করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে সহযোগিতার ইঙ্গিত দিয়েছে। ভবিষ্যৎ আলোচনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর অংশগ্রহণও থাকতে পারে।

নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও অর্থনৈতিক সুবিধা

চুক্তির অন্যতম বড় আকর্ষণ হচ্ছে ইরানের জন্য সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুবিধা।

নথি অনুযায়ী:

• ধাপে ধাপে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতে পারে।

• ইরানের স্থগিত সম্পদ মুক্ত করা হবে।

• ইরান পুনরায় তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানি করতে পারবে।

• আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ ছাড় (Sanction Waiver) দেবে।

এছাড়া ভবিষ্যতে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি উন্নয়ন তহবিলে প্রবেশাধিকার পাওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে শর্ত

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালীতে অবাধ নৌ চলাচলে হস্তক্ষেপ না করার বিষয়টিও সমঝোতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইরান যদি তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, তাহলে কোনো অর্থনৈতিক সুবিধাই কার্যকর হবে না।

ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ

চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বিতর্ক বাড়ছে।

রক্ষণশীল মহলের অনেকেই অভিযোগ করছেন, যুদ্ধ ও উত্তেজনা কমানোর বিনিময়ে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে অতিরিক্ত ছাড় দিয়েছে কি না, তা জনগণের সামনে পরিষ্কার করা উচিত।

এ কারণে দ্রুত চুক্তির পূর্ণ পাঠ প্রকাশের দাবি জোরালো হচ্ছে।

কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতা

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো আলোচনায় কাতার ও পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে।

তাদের অনুরোধে চুক্তির প্রকাশনা একটি নির্দিষ্ট কূটনৈতিক সময়সূচি অনুযায়ী করা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র চায় নির্ধারিত সময়ের আগেই নথি প্রকাশ করতে।

সামনে ৬০ দিনের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা

আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু হবে।

পরবর্তী ৬০ দিনে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং আস্থা পুনর্গঠনের মতো জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

মার্কিন প্রশাসন এই সময়কে ইরানের জন্য একটি "পরীক্ষামূলক সময়কাল" হিসেবে দেখছে। এই সময়ের ফলাফলই নির্ধারণ করবে বর্তমান সমঝোতা একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী চুক্তিতে রূপ নেবে কি না।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর