নিউইয়র্কের আরও ২০টি পাতাল রেল স্টেশনে নতুন কাচের ভাড়া প্রবেশদ্বার বসাবে কর্তৃপক্ষ

ভাড়া না দিয়ে যাতায়াত কমাতে নিউইয়র্কের আরও ২০টি স্টেশনে কাচের প্রবেশদ্বার বসানোর পরিকল্পনা করেছে কর্তৃপক্ষ, তবে কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নও আছে।

নিউইয়র্কের আরও ২০টি পাতাল রেল স্টেশনে নতুন কাচের ভাড়া প্রবেশদ্বার বসাবে কর্তৃপক্ষ

নিউইয়র্কের আরও ২০টি পাতাল রেল স্টেশনে নতুন কাচের ভাড়া প্রবেশদ্বার বসাবে কর্তৃপক্ষ


নিউইয়র্কের পাতাল রেলে ভাড়া না দিয়ে প্রবেশ ঠেকাতে আরও ২০টি স্টেশনে নতুন ধরনের কাচের প্রবেশদ্বার বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


নগর পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরীক্ষামূলকভাবে ২০টি স্টেশনে বসানো নতুন প্রবেশদ্বার ব্যবহারের পর সেখানে ভাড়া না দিয়ে প্রবেশের ঘটনা গড়ে ৩৫ শতাংশ কমেছে। এই ফলাফলের পর আরও ২০টি স্টেশনে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


নতুন প্রবেশদ্বারগুলো সাধারণ পুরোনো ঘূর্ণায়মান দরজার পরিবর্তে বড় কাচের দরজা ব্যবহার করে। এতে ভাড়া না দিয়ে লাফিয়ে বা নিচ দিয়ে ঢুকে পড়া কঠিন হবে। পাশাপাশি চলাফেরায় অসুবিধা থাকা যাত্রী, শিশুর গাড়ি বা বড় ব্যাগ নিয়ে চলাচলকারীদের জন্য প্রশস্ত প্রবেশপথ রাখার লক্ষ্য রয়েছে।


নতুন ব্যবস্থার পরীক্ষায় কয়েকটি স্টেশনে আরও বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। কিছু স্টেশনে ভাড়া না দিয়ে প্রবেশের ঘটনা ৬৫ থেকে ৭২ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে বলে পরিবহন কর্তৃপক্ষের তথ্য উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে।

নতুন ২০টি স্টেশনের মধ্যে ব্রুকলিন, ব্রঙ্কস, ম্যানহাটন ও কুইন্সের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে ইউনিয়ন স্কয়ার, ফ্লাশিং-মেইন স্ট্রিট, ইয়াঙ্কি স্টেডিয়াম, বেডফোর্ড অ্যাভিনিউসহ ব্যস্ত কয়েকটি স্টেশনও রয়েছে।


পুরোনো প্রবেশব্যবস্থার কারণে পরিবহন কর্তৃপক্ষ প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। নতুন ব্যবস্থার উদ্দেশ্য শুধু ভাড়া না দেওয়া কমানো নয়, যাত্রীদের প্রবেশ ও বের হওয়ার অভিজ্ঞতাও উন্নত করা।

এই প্রকল্পটি বড় একটি অবকাঠামো বিনিয়োগের অংশ। আগামী কয়েক বছরে মোট ১৫০টি পাতাল রেল স্টেশনে আধুনিক প্রবেশব্যবস্থা বসানোর জন্য প্রায় ১১০ কোটি ডলারের পরিকল্পনা রয়েছে।


কর্তৃপক্ষের হিসাবে, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে ভাড়া আদায় বাড়লে পাতাল রেলের পরিচালনায় অতিরিক্ত অর্থ পাওয়া যেতে পারে। সেই অর্থ ভবিষ্যতে রক্ষণাবেক্ষণ ও যাত্রীসেবা উন্নত করতে কাজে লাগানোর সুযোগ থাকবে।

তবে নতুন কাচের প্রবেশদ্বার নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। এর কার্যকারিতা, নিরাপত্তা ও বাস্তব ব্যয় নিয়ে আগেও প্রশ্ন উঠেছে। পরীক্ষামূলক ব্যবস্থার ফলাফলকে পুরো নগর ব্যবস্থার জন্য কতটা প্রযোজ্য ধরা যাবে, সেটিও আলোচনার বিষয়।


তারপরও পরিবহন কর্তৃপক্ষ পরীক্ষামূলক ফলাফলকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে এবং ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ আরও স্টেশনে নতুন প্রবেশদ্বার বসানোর কাজ এগিয়ে নিতে চায়।

নিউইয়র্কের নিয়মিত পাতাল রেল যাত্রীদের জন্য এর অর্থ হলো আগামী দিনগুলোতে আরও বেশি স্টেশনে পুরোনো ঘূর্ণায়মান দরজার পরিবর্তে আধুনিক কাচের প্রবেশব্যবস্থা দেখা যেতে পারে।


প্রকল্পটি সফল হলে ধীরে ধীরে পাঁচটি বরোর আরও অনেক স্টেশনে একই ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর